সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ সেপ্টেম্বরঃ আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে ইতিমধ্যেই তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি। আর্থিক দুর্নীতিকাণ্ডে সন্দীপ ঘোষ গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর বেলেঘাটার বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি। এরপরই উঠে আসে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। শুধুমাত্র তাঁর বেলেঘাটার বাড়ি নয়, তাঁর শ্বশুরবাড়ি, শ্যালিকার বাড়িতেও দফায় দফায় তল্লাশি চালিয়ে একাধিক নথি উদ্ধার হয়েছে। আরজিকরে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় মঙ্গলবার সকালে ফের শহরের ছ’টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। এদিন সকাল ৬টা ৪৫ নাগাদ শ্রীরামপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা আরজিকর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান সুদীপ্ত রায়ের সিঁথির মোড় সংলগ্ন বি টি রোডের বাড়ি ও নার্সিংহোমে হানা দেয় ইডি। গোটা বাড়িতে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে তদন্তকারী আধিকারিকরা। ভিতরে রয়েছেন সুদীপ্ত রায়ও। একইসঙ্গে হুগলির দাদপুরের দাঁড়পুর গ্রামে সুদীপ্ত রায়ের বাংলোতেও ইডি অভিযান শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে ঔষধ ব্যবসায়ী সন্দীপ জৈনের বাড়িতেও হানা দিয়েছে ইডি। আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে মেডিক্যালের ইক্যুয়েপমেন্ট সাপ্লাই করতেন তিনি। অভিযোগ, সেখান থেকে কমিশন পেতেন সন্দীপ ঘোষ। সেই তদন্তেই বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে সন্দীপ জৈনের বাড়ি এবং তাঁর অফিসে ইডির হানা।
আরও পড়ুন বিনীত গোয়েলের বিদায়,জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি কার্যত মেনে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী
একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। আরজিকর হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আরজিকর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে ইডি-সিবিআই। হাইকোর্টের নির্দেশের পরেই আরজিকরে দুর্নীতির তদন্তে এফআইআর করে সিবিআই। জোরকদমে শুরু হয়ে যায় তল্লাশি। সেই সূত্রেই আদালতের নির্দেশে শহরজুড়ে অভিযানে নেমেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। অভিযোগ, স্বাস্থ্যভবন ও কলেজ কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই ফুড স্টল, কাফে, ক্যান্টিন, সুলভ কমপ্লেক্স তৈরির জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়। তিনজন বিশেষ ব্যবসায়ীই এই প্রত্যেকটি ‘বেআইনি’ টেন্ডার পান। তাঁদের একেকজনকে কয়েক কোটি টাকার বরাত দেওয়া হয়।

ফিনান্স ও অ্যাকাউন্ট অফিসারদের কিছু না জানিয়েই এই বরাতগুলি দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য কাজ করানো হয় পূর্ত দফতরকে না জানিয়েই। ডাক্তারি শিক্ষার তহবিল নয়ছয়ের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ, পুরসভার বদলে হাসপাতালের কর্তারা পার্কিং থেকে টাকা আদায় করে তা সরিয়ে দেন। চুক্তির ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে। এক স্বাস্থ্যকর্তার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে চাহিদামতো রদবদলেরও অভিযোগ উঠেছে। বিক্রেতাদের কাছ থেকেও কুড়ি শতাংশ টাকা তোলা হত বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, ভেন্ডারদের সাহায্যে এক স্বাস্থ্যকর্তার বাগানবাড়ি সাজানো হত। তা না করলে তাঁরা হুমকির মুখে পড়তেন এমনও অভিযোগ উঠে এসেছে। একদিন অন্তর হাসপাতালের ব্যবহার হয়ে যাওয়া সিরিঞ্জ, স্যালাইনের বোতল, রবার গ্লাভস, হ্যান্ড গ্লাভস মিলিয়ে কয়েকশো বর্জ্য বের হতো। তাতেও নাকি দুর্নীতি করতেন সন্দীপ। একটা ব়্যাকেট বানিয়ে ফেলেছিলেন, তাতে যুক্ত ছিলেন দু’জন বাংলাদেশিও। এসব দুর্নীতির নথিই দ্রুত সংগ্রহ করতে চাইছে ইডি এবং সিবিআই। কে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তারও পর্দাফাঁস করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
#RGKarProtest #RGkarHospital #RGKARDoctorDeath #Latestbengalinews #CBI #MLASudeeptaRoy #RGKarHospitalfinancialcorruptioncase


More Stories
মেসিকাণ্ড ঘিরে “কুৎসা”, ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করলেন সৌরভ
আরজিকরের তরুণ চিকিৎসকের অস্বাভাবিক মৃত্যু, নেপথ্যে কোন রহস্য ?
নাটকীয় দৃশ্য। সেনার ট্রাক আটকাল কলকাতা পুলিশ !