Home » কলকাতার ছ’টি হাসপাতালের নিরাপত্তায় চালু হল ‘রাত্তিরের সাথী’, দায়িত্বে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারেরা

কলকাতার ছ’টি হাসপাতালের নিরাপত্তায় চালু হল ‘রাত্তিরের সাথী’, দায়িত্বে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারেরা

চুমকী সূত্রধর, সময় কলকাতা, ২৮ সেপ্টেম্বরঃ আরজিকর কাণ্ডে সুপ্রিম প্রশ্নের মুখে বারবার পড়তে হয়েছে রাজ্য প্রশাসনকে। প্রশ্ন উঠেছে নারী নিরাপত্তা নিয়েও। এসবের মাঝেই প্রায় ১ মাস আগে কর্মস্থলে মহিলাদের নিরাপত্তায় ১৭ দফা পদক্ষেপের ঘোষণা করা করেছিল নবান্ন। আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করার ঘটনার পর এই প্রকল্প চালু করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর ‘‌রাত্তিরের সাথী’‌ প্রকল্পে কিছু বদল আনা হয়েছে। সেই বদল আনার পরই ‘রাত্তিরের সাথী— হেল্পার অ্যাট নাইট’ চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে এবার সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হল। বৃহস্পতিবার মেডিক্যাল কলেজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই কথাই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের তরফে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যপালের অনুমতিক্রমে কলকাতা পুলিশের এলাকার চারটি সরকারি হাসপাতাল একটি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল এবং একটি জেলা হাসপাতালে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে পর্যবেক্ষণ, নজরদারি ও সমন্বয় গড়ে তুলতে চালু হল ‘রাত্তিরের সাথী’। প্রতিটি হাসপাতালের দায়িত্বে থাকবেন এক জন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার। কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সুপারিশের ভিত্তিতেই ওই ছ’জন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারকে ‘রাত্তিরের সাথী’ প্রকল্পে নিয়োগ করা হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন।

আরও পড়ুন  Anwar Ali: আনোয়ার ইস্যুতে আবার পিছিয়ে গেল শুনানি, ইস্টবেঙ্গলকে ডেডলাইন ফেডারেশনের

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সাম্প্রতিক ঘটনা পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের এক চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ এবং খুনের মামলার শুনানিতে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্তদের নিরাপত্তায় টাস্ক ফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। এর পরেই সমস্ত সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, জেলা হাসপাতাল এবং সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ, সেনা অফিসার, নৌবাহিনী, বায়ুসেনার অফিসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই মর্মে একটি নির্দেশিকাও জারি করেছিলেন রাজ্য পুলিশের তৎকালীন এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) মনোজ বর্মা। ঘটনাচক্রে, তিনিই এখন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, গত দু’বছরের মধ্যে অবসর নেওয়া পুলিশ ইনস্পেক্টর থেকে এসপি, যাঁরা এখনও শারীরিক ভাবে কর্মক্ষম এবং হাসপাতালগুলির নিরাপত্তার তদারকি করতে ইচ্ছুক, তাঁদের সম্পর্কে যেন তথ্য জোগাড় করা হয়। একই ভাবে অবসর নেওয়া সেনা অফিসার, নৌবাহিনীর অফিসার বা বায়ুসেনার অফিসারদেরও একটি তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছিল। কোনও রকম হিংসা বা লিঙ্গবৈষম্য দূর করা এবং চিকিৎসক, শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কাজের পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে প্রথম দফায় শহরের ছ’টি হাসপাতালে চালু হল ‘রাত্তিরের সাথী’ কর্মসূচি।

প্রথম পর্যায়ে যে ছ’টি হাসপাতালে এই কর্মসূচি চালু হয়েছে, সেগুলি হল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, এসএসকেএম, এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ, মেটিয়াবুরুজ (গার্ডেনরিচ এসজিএফ) এবং এমআর বাঙুর হাসপাতাল। প্রতিটি হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন প্রাক্তন ডেপুটি বা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার পুলিশ অফিসার। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে নওশাদ আলি, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে অনুজ হোম রায়, এসএসকেএমে অরবিন্দকুমার মিশ্র, এনআরএল মেডিক্যাল কলেজে আসিফ জামাল, মেটিয়াবুরুজ (গার্ডেনরিচ এসজিএফ)-এ দেবাশিস চক্রবর্তী এবং এমআর বাঙুরে বিশ্বজিৎ রায় দায়িত্ব পেয়েছেন। এঁরা সকলেই কলকাতা পুলিশের ডেপুটি বা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদে কর্মরত ছিলেন। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বর্তমানে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দায়িত্বে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ‘রাত্তিরের সাথী’ কর্মসূচির আওতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নতি ও নজরদারি বাড়ানোর মাধ্যমে কর্মরত মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এই প্রকল্পটি যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং কর্মস্থলে একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করবে, তা নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ।

#RattirerSaathi #Retiredpoliceofficers #RGkarHospital  #RGKARDoctorDeath  #Latestbengalinews

About Post Author