সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ অক্টোবর: নির্মল নগরে নিজের অফিস থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময়ই দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে অজিতপন্থী এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকির। এদিন খুনের দায় স্বীকার করেছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। দলের তিন সদস্য দশেরার রাতে গুলি করে হত্যা করে এই রাজনীতিবিদকে। জানা গিয়েছে, সলমন খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই বাবা সিদ্দিকিকে হত্যা করেছে বিষ্ণোই গ্যাং। অনেকের মতে দাউদের পরে এই বিষ্ণোই তাঁর জায়গা নেবে আন্ডার ওয়ার্ল্ডে। এবার সেই নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করলেন জন অধিকার পার্টির নেতা রাজেশ রঞ্জন, যিনি পাপ্পু যাদব নামেই বেশি পরিচিত। একজন এত বড় ব্যবসায়ীর খোলা রাস্তায় এভাবে খুন হয়ে যাওয়ার দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: Baba Siddiqui: দশেরার রাতে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত বাবা সিদ্দিকী
শনিবার নিজের কার্যালয় থেকে ফেরার সময় গাড়িতে ওঠার আগেই দুষ্কৃতীরা একাধিক গুলিতে বিদ্ধ করে শহরের নামজাদা ব্যবসায়ীকে। রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন সিদ্দিকি। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল তাঁর তবে শেষ রক্ষা হয়নি। রবিবার ব্যবসায়ীর খুনের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন জন অধিকার পার্টির নেতা তথা, বিহারের পূর্ণিয়া কেন্দ্রের সাংসদ পাপ্পু যাদব। দেশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এদিন নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “এটা কি দেশ নাকি নপুংসকদের বাহিনী! একজন অপরাধী জেলে বসে চ্যালেঞ্জ করছে সে মানুষ খুন করবে। সবাই নীরব দর্শক কখনো মুসেওয়ালা, কখনো করণী সেনার প্রধান এখন একজন শিল্পপতি রাজনীতিবিদকে হত্যা করা হলো। আইন যদি অনুমতি দেয়, এই লরেন্স বিষ্ণোইকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে নিম্ন কারাগারের অপরাধীদের পুরো নেটওয়ার্কের মতো আমি ওঁকে শেষ করব।”
উল্লেখ্য, পাপ্পু যাদবের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল 1990 সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে সিংহেশ্বর আসনে তার স্বতন্ত্র জয়ের মাধ্যমে । তিনি শীঘ্রই RJD প্রধান লালু প্রসাদ যাদব সহ বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন । 1991 সালের ভারতীয় সাধারণ নির্বাচনে , যাদব পূর্ণিয়া লোকসভা কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়লাভ করেন, কোসি অঞ্চলে তার প্রভাবকে মজবুত করে । 2008 সালে, যাদবকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয় , যা তাকে ভবিষ্যত নির্বাচনে লড়তে অযোগ্য করে। যদিও ২০১৪ সালে অনেক তদন্তের পর সেই কেস থেকে বেকসুর খালাস মেয়ে ফের রাজনীতিতে ফিরে আসেন পাপ্পু। এরপর আর থামেনি তার রাজনৈতিক কেরিয়ার। ২৯২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিহারের পূর্ণিয়া আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, 23,000 ভোটের ব্যবধানে এই আসনে জয়ী হন তিনি। জেডিইউ প্রার্থী সন্তোষ কুশওয়াহা এবং আরজেডি প্রার্থী বিমা ভারতীকে পরাজিত করেন জন অধিকার পার্টির বিধায়ক।


More Stories
ঋতব্রতদের সম্পর্কে কুণাল ঘোষের বক্তব্য কেন তাৎপর্যপূর্ণ?
বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে গ্রেফতার অসিত মজুমদার
সোনারপুরে অভিষেককে মারধর, মেরে জামা ছিঁড়ে দেওয়া হল অভিষেকের