Home » খনিতে জল ঢুকে অসমে বিপত্তি ,মাটির ৩০০ ফুট নিচে আটকে ৯ শ্রমিক, মৃত ৩ উদ্ধারে নামলো সেনা

খনিতে জল ঢুকে অসমে বিপত্তি ,মাটির ৩০০ ফুট নিচে আটকে ৯ শ্রমিক, মৃত ৩ উদ্ধারে নামলো সেনা

সময় কলকাতা ডেস্ক:-অসমে ব়্যাট-হোল খনিতে জল ঢুকে বিপত্তি। সোমবার মাটির ৩০০ ফুট নিচে আটকে পড়েন ৯ শ্রমিক! সেই ঘটনায় মঙ্গলবার ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করল প্রশাসন। উদ্ধারকারী দলের তরফে জানানো হয়েছে, তিন শ্রমিকের দেহ জলে ভাসতে দেখা গিয়েছে। এদিকে ভিতরে আটকে পড়া শ্রমিকের সংখ্যা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। অবৈধ খনিতে কয়লার সন্ধানে নেমেছিলেন শ্রমিকেরা। হঠাৎই সেখানে জল ঢুকতে শুরু করে। অসমের দিমা হাসাও জেলার প্রত্যন্ত শিল্প শহর উমরাংসোর সেই খনিতে আটকে পড়েন শ্রমিকরা।

কি করে দুর্ঘটনা?

মেঘালয় সংলগ্ন ওই জেলায় খনিটি দুর্গম পাহাড়ের উপর অবস্থিত। জেলা সদর হাফলং থেকে দেড়শো কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খনিটি ডিমা হাসাও জেলার উপরাং এলাকার কালামাটি গ্রামে অবস্থিত। সোমবার হাসাও জেলার ওই অবৈধ খনির ১০০ ফুট গভীরে জল পৌঁছে যায়। প্রথমে আটকে পড়া শ্রমিকদের সংখ্যা প্রায় ২০ বলে জানানো হয়েছিল। পরে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ৯ জন শ্রমিকের নামের তালিকা প্রকাশ করেন। ওই তালিকায় রয়েছেন জলপাইগুড়ির এক বাসিন্দাও। এক শ্রমিক নেপালের বাসিন্দা। আর বাকি সাত জন অসমের।

উদ্ধার কার্য শুরু

উদ্ধারকাজের প্রক্রিয়া জটিলতা তৈরি হওয়ায় সোমবারই সেনাবাহিনীর কাছে সাহায্যের আর্জি জানিয়েছিল অসম সরকার। মঙ্গলবার ভোরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সেনা। পৌঁছয় জাতীয় এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দলও। সকালে খনিমুখে পৌঁছয় অসম রাইফেলসের পাথফাইন্ডার ইউনিটও। উদ্ধারকাজে সম্ভাব্য জটিলতার কথা মাথায় রেখে খবর দেওয়া হয় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার টাস্ক ফোর্সকে। জানা গিয়েছে, ক্রেন এবং দড়ির ব্যবহারে খনিতে নেমেছেন উদ্ধারকারীরা। সেনার তরফেও দক্ষ সাঁতারুদের মোতায়েন করা হয়। উদ্ধার করার পর শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে রাখা হয়েছে হেলিকপ্টারও।

শ্রমিকেরা অবৈধ এই ইঁদুর-গর্ত বা র‌্যাট হোল মাইনে নামার কারণেই এই দুর্ঘটনা বলে অনুমান। এবার প্রশ্ন হল, কী এই র‌্যাট-হোল মাইনিং? কেনই বা তা নিষিদ্ধ? ব়্যাট-হোল মাইনিং এমন একটি পদ্ধতি যা সাধারণত অসম, মেঘালয় রাজ্যে কয়লা উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কোনও যন্ত্রের সাহায্যে নয়, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে শ্রমিকরাই গর্ত খুড়ে কয়লা উত্তোলন করেন। এক কালে খনি থেকে আকরিক উত্তোলনের কাজে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হত। ২০১৪ সালে মেঘালয়ে একটি দুর্ঘটনার পর এই ব়্যাট-হোল মাইনিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। তবে ২০২৩ সালের নভেম্বরে উত্তরাখণ্ডের সিলকিয়ারা টানেলে ৪১ জন শ্রমিককে উদ্ধার করতে ফের এই পদ্ধতিতেই সাফল্য আসে। কিছুদিন আগেই রাজস্থানে কুয়োয় পড়ে যাওয়া তিন বছরের শিশুকে উদ্ধারেও শেষ পর্যন্ত সেই ইঁদুর-গর্ত খননকারীদেরই শরণ নিতে হয়। যদিও ওই শিশুকে বাঁচানো যায়নি।

About Post Author