Home » বিষাক্ত স্যালাইনে মৃত্যুর অভিযোগ ,মেদিনীপুরে স্বাস্থ্য দপ্তরের তদন্তকারীরা

বিষাক্ত স্যালাইনে মৃত্যুর অভিযোগ ,মেদিনীপুরে স্বাস্থ্য দপ্তরের তদন্তকারীরা

সময় কলকাতা ডেস্ক:-স্যালাইনের বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে এক প্রসূতির। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও চার। এই পরিস্থিতিতে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছাল স্বাস্থ্যভবনের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করছেন তাঁরা। এদিন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ দেখায় একের পর এক রাজনৈতিক দল ও তাদের ছাত্র সংগঠন। চিকিৎসা পরিকাঠামোয় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে তারা। রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখায় তারা। পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিও হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই গাফিলতির জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।

কীভাবে এই গাফিলতি ঘটল, তা খতিয়ে দেখতেই এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে নবান্নের নির্দেশে এদিন সকালেই হাসপাতালে পৌঁছায় স্বাস্থ্যবিভাগের ১৩ সদস্যের এই প্রতিনিধির দল। সবমিলিয়ে এই ঘটনা ঘিরে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে তুমুল উত্তেজনা ছিল আজ দিনভর। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতি মৃত্যুতে একের পর এক মারাত্মক অভিযোগ উঠে এসেছে সামনে।

মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে আগেও মেয়াদ উত্তীর্ণ, নিম্নমানের স‌্যালাইন ও ওষুধপত্র ব‌্যবহার করা হয়েছে রোগীদের এই অভিযোগ সামনে এসেছে। স‌্যালাইনের বোতলে ছত্রাক ছিল বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে বৃহষ্পতিবারই হাসপাতাল সুপারকে লিখিতভাবে জানিয়েছে অভিযোগকারীরা। আর শুক্রবার সকালে মারা যান মামনি রুইদাস(২০) নামে ওই প্রসূতি। অসুস্থ হয়েছেন আরও চারজন। তাঁদের মধ্যে ১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।

আরও মারাত্মক অভিযোগ গত সাতই জানুয়ারি রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর অভিযুক্ত সংস্থার স্যালাইন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু অভিযোগ আজকের দিনেও শহরের নামি সরকারি হাসপাতাল গুলিতে ওই অভিযুক্ত সংস্থার স্যালাইন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ডাক্তারদেরই একটা অংশ। পাশাপাশি তাদের দাবি এই সংস্থার বিরুদ্ধে কর্ণাটক সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের দারস্ত হয়েছিল। কর্ণাটক সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল এবং কর্ণাটকের একটি প্রতিনিধি দল এ রাজ্যে এসে স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের বিষয়টি নজরে আনেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার উত্তরবঙ্গের দুটি কারখানায় তারা ভিজিট করেন।

দাবি করা হচ্ছে যে সেখানে কর্নাটক সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিনিধিরা দেখেন যে সঠিক পরিকাঠামো এবং সঠিক মান বজায় রেখে ওই সংস্থা এই সমস্ত অতি প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দ্রব্যাদি তৈরি করছে না। তারপরই রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর সংস্থাকে ৭ই জানুয়ারি কালো তালিকাভুক্ত করে।

এখন প্রশ্ন কালো তালিকা ভুক্ত একটি সংস্থার স্যালাইন বা ওষুধ বা চিকিৎসা দ্রব্যাদি কি করে আজ ১১ তারিখও রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে রোগীদের দেওয়া হয়। যেখানে রাজ্য সরকার জানিয়েছিল আপাতত ওই সংস্থার স্যালাইন ব্যবহার করা যাবে না আপাতত বিকল্প ব্যবস্থা যতক্ষণ না পর্যন্ত চালু হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাজার থেকে বিকল্প স্যালাইনের ব্যবস্থা করবে। তাহলে কি করে সরকারি হাসপাতাল গুলিতে আজও এই কালো তালিকাভুক্ত স্যালাইন ব্যবহার হচ্ছে এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।

About Post Author