Home » রাষ্ট্রপতির অধিকার কি সুপ্রিম কোর্ট বেঁধে দিতে পারে? প্রশ্ন দ্রৌপদী মুর্মুর, নিশানায় সুপ্রিম কোর্ট

রাষ্ট্রপতির অধিকার কি সুপ্রিম কোর্ট বেঁধে দিতে পারে? প্রশ্ন দ্রৌপদী মুর্মুর, নিশানায় সুপ্রিম কোর্ট

সময় কলকাতা ডেস্ক:- একটি মামলায় রাষ্ট্রপতির অধিকার বেঁধে দিয়েছে সুপ্রিম। সেই রায় ঘিরে এবার সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি। এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সুপ্রিম কোর্টের সেই রায় নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখালে, তা নিয়ে বিচার মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির এমন প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া বিরল ঘটনা বলে নানা মহলের মত। তবে কি বিচারবিভাগের সঙ্গে প্রশাসনের দুরত্ব আরও বাড়ছে? বেনজিরভাবে সংবিধানের ১৪৩ ধারা ব্যবহার করে সুপ্রিম কোর্টকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন খোদ রাষ্ট্রপতি। রাজ্যপাল এবং রাষ্ট্রপতিদের বিল পাশ করানোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া নিয়ে বিচারবিভাগের উদ্দেশে ১৪ টি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন দ্রৌপদী মুর্মু। যার ফলে দেশে কার্যত সাংবিধানিক সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এবার শীর্ষ আদালতের সাংবিধানিক বেঞ্চকে রাষ্ট্রপতির ওই প্রশ্নগুলির জবাব দিতে হবে।

বিষয়টা কী?

গত ৮ এপ্রিল বিচারপতি জেবি পাদ্রিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দেয়, আইনসভায় পাশ করা কোনও বিল রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতি কেউই অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে রাখতে পারেন না। ওই বিল নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাঁদের। এই সংক্রাম্ত মামলাটি ছিল তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল বনাম রাজ্য সরকারের। রাজ্যপাল আরএন রবি বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলগুলি আটকে রেখে অসহযোগিতা করছেন বলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে রাজ্যের ডিএমকে সরকার।

সমস্যা হল, এমনিতে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতিকে এভাবে নির্দেশ দিতে পারে না। কিন্তু সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, শীর্ষ আদালত ‘সুবিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে’ আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে বিশেষ রায় দিতেই পারে। এ ক্ষেত্রেও তেমনটাই করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত উপযুক্ত সময় হিসাবে তিনমাস নির্ধারণ করে দেয়। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শাসক শিবিরের বহু নেতা বিচারবিভাগকে তোপ দেগেছেন। রায়ের তীব্র সমালোচনা করে প্রকাশ্যে সরব হন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। এবার সরাসরি রাষ্ট্রপতি মুখ খুললেন।

কী প্রশ্ন রাষ্ট্রপতির?

সংবিধানের ১৪৩ ধারা অনুযায়ী বিশেষ ক্ষমতা পান রাষ্ট্রপতিও। সুপ্রিম কোর্টের যে কোনও রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে তাঁর। সেই অধিকার বলে দ্রৌপদী মুর্মু সুপ্রিম কোর্টকে ১৪ টি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, সুপ্রিম কোর্ট কীভাবে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালকে বিল পাশের সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে? সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ ক্ষমতাকে কি রাজ্যগুলি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে? কোনও রাজ্যপালের সিদ্ধান্তে কি আদৌ বিচারবিভাগ হস্তক্ষেপ করতে পারে? রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কি সুপ্রিম রায়ে খর্ব হচ্ছে না?

কঠিন চ্যালেঞ্জ বিচারপতি গাভাইয়ের

বুধবারই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি বি আর গাভাই। শপথ নিয়েই কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে তিনি। এবার রাষ্ট্রপতির প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠন করতে হবে তাঁকে। সেই সাংবিধানিক বেঞ্চের সদস্যসংখ্যা অন্তত ৫ জন হতে হবে। সেই সাংবিধানিক বেঞ্চের পরামর্শ মেনে রাষ্ট্রপতির প্রশ্নগুলির জবাব দিতে হবে প্রধান বিচারপতিকে।

About Post Author