Home » চাকরিহারাদের বিকাশ ভবন ঘেরাও অভিযান, ভাঙল বিকাশ ভবনের গেট, তুমুল উত্তেজনা

চাকরিহারাদের বিকাশ ভবন ঘেরাও অভিযান, ভাঙল বিকাশ ভবনের গেট, তুমুল উত্তেজনা

সময় কলকাতা ডেস্ক:-  ফের পথে এসএসসির চাকরিহারারা। বৃহস্পতিবার সকালে বিকাশ ভবন অভিযানে শামিল হন তাঁদের একাংশ। আর এই অভিযান ঘিরেই তুলকালাম বেঁধে যায় সল্টলেকে।

অবিলম্বে যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং টাকা দিয়ে চাকরি পাওয়া অযোগ্যদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, এই দাবিতে গত ৯ দিন ধরে বিকাশ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছেন এসএসসি ২০১৬ প্যানেলের যোগ্য চাকরিহারা অধিকার মঞ্চের শিক্ষকরা।

বৃহস্পতিবার আচমকা বিকাশ ভবনের সামনে বড় ধরনের জমায়েত করেন তাঁরা। চাকরিহারা শিক্ষকদের আচমকা অভিযানের জেরে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে পুলিশও। দ্রুত পুলিশের তরফে বিকাশভবনের সামনে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। লোহার প্রধান ফটক লাগিয়েও দেওয়া হয়। বাইরে তখন হাজার হাজার চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক, শিক্ষিকা। তাঁদের হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা, চোরেদের বিচার চাই, আমাদের চাকরি ফেরত চাই!

গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসএসির ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল হয়েছে। প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। পরে রায়ের কয়েকটি দিক পরিবর্তনের জন্য আবেদন করা হলে আদালত ‘অযোগ্য বলে প্রমাণিত নন’ শিক্ষকদের আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেয়। তাঁরা বেতনও পাচ্ছেন। কিন্তু অশিক্ষক কর্মী অর্থাৎ গ্রুপ সি ও ডিদের ক্ষেত্রে এই রকম কিছু বলা হয়নি। তাঁরা বেতন পাচ্ছেন না। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গ্রুপ সি কর্মীদের মাসিক ২৫ হাজার টাকা এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের মাসে ২০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা বুধবার নবান্ন থেকে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

যদিও, চাকরিহারারা বারবার অভিযোগ তুলেছেন, অযোগ্যদের বাঁচাতে চাইছে রাজ্য। এরপরই বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে অভিযানে নামেন চাকরিহারারা। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে দেড় ঘণ্টার ডেডলাইনও বেঁধে দেন চাকরিহারারা। প্রথমে বিকাশ ভবনের গেটে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকানো হয়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেঁধে যায়। তারপরই গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন আন্দোলনকারীরা।

তাঁদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল মে মাসের মধ্যে নতুন করে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তা হয়নি, রাজ্য উদ্যোগ নিচ্ছে না। একইসঙ্গে তাঁদের প্রশ্ন, অন্যের পাপের দায় কেন নেবেন তাঁরা?

এরইমধ্যে ঘটনাস্থলে যান তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। কিন্তু আন্দোলনকারীদের স্লোগানে তাঁকে ফিরে যেতে হয়। এরপরই সব্যসাচীর নেতৃত্বে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ, হেলমেট পরে ভেতরে ঢুকে সেই হেলমেটে করেই চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়। ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন বলে খবর। এমনকী একটি বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমের এক সাংবাদিককেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ যদিও পাল্টা হামলার অভিযোগ এনেছেন সব্যসাচীও। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে বিকাশভবন চত্বরে। এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।

About Post Author