Home » সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে অগ্নিগর্ভ হরিয়ানা! মৃত ৫, গ্রেফতার কমপক্ষে ১১৬

সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে অগ্নিগর্ভ হরিয়ানা! মৃত ৫, গ্রেফতার কমপক্ষে ১১৬

সময় কলকাতা ডেস্ক,২ আগস্ট: কেটে গিয়েছে ৪৮ ঘণ্টা। এখনও সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে অগ্নিগর্ভ হরিয়ানা। নুহর পর মঙ্গলবার বিকেলে সেক্টর ৭০-র একটি আবাসনের পাশে কয়েকটি দোকান ও ঝুপড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এমনকী একদল উত্তেজিত জনতা গুরুগ্রামের একটি রেস্তোরাঁ ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এদিকে, এই সংঘর্ষ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবরও ছড়িয়ে পড়েছে। যার কারণে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪৪টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সেই এফআইআরের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ১১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন       সংসদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে অনাস্থা বিতর্ক ৮ আগস্ট

হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর রাজ্যবাসীকে শান্তি বজায়ের আর্জি জানিয়েছেন। কোনও ধরনের ভুয়ো খবর যাতে রটানো না হয়, সেই আবেদনও জানান তিনি। একইসঙ্গে পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, কোনওভাবেই যেন গুজবে কান না দেওয়া হয়। স্কুল-কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। খোলা রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি দফতরও। জানা গিয়েছে, গত শনিবার গুরুগ্রামের নুহ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে বাদশাহপুরে একটি ধর্মীয় মিছিলের ডাক দিয়েছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সেই মিছিল জাতীয় সড়কে পৌঁছালে একদল যুবক বাধা দেয় এবং পাথর ছোড়ে বলে অভিযোগ।

জানা গিয়েছে,৫০-৬০ জনের দল লাঠি, পাথর নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের দোকান ভাঙচুর করে এবং এলাকার এ মসজিদের সামনে গিয়ে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেয়। তারপর একের পর এক গাড়িতে, দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে আক্রান্ত হয়েছেন রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা বহু সাধারণ মানুষও। ঘটনার পরেই স্থানীয় প্রশাসন কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামে। এলাকায় ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা।

আরও পড়ুন   পাঁচ দিনের ব্যবধানে ফের ভূমিকম্প কেঁপে উঠল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ

সূত্রের খবর, সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে একজন ইমাম এবং দুই হোমগার্ড-সহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহত দুই হোমগার্ডের নাম নীরজ ও গুরুসেবক। এছাড়া অন্যান্য দুই মৃতের মধ্যে রয়েছেন নুহ শহরের দোকানদার শক্তি এবং পানিপথের বাসিন্দা অভিষেক। সূত্রের খবর, তাঁরা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। আর ওই ইমামের নাম মহম্মদ শাদ। তিনি গুরুগ্রাম সেক্টর ৫৭ এলাকার একটি মসজিদের ইমাম।

About Post Author