সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ সেপ্টেম্বর: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। তদন্ত যতই এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূতে হচ্ছে রহস্য। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। এহেন পরিস্থিতিতে যাদবপুরে র্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ‘স্টেক হোল্ডার’দের সঙ্গে বৈঠকে বসেন উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ। সেই বৈঠকের পরেই মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন তোলেন যাদবপুরের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য। পড়ুয়াদের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন না করার আর্জি জানাতে বাধ্য করা হয় উপাচার্যকে। উপাচার্য বলেন, ‘আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। পড়ুয়াদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কীভাবে উপাচার্য এমন কথা বললেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা মহলের একাংশ। এদিনের বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং রুখতে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেটা অল স্টেক হোল্ডার বৈঠকে নিতে হবে। এমনকী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথায় কোথায় সিসিটিভি বসবে সেটাও ছাত্র সংগঠনকে জানাতে হবে।

উল্লেখ্য, যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ইউজিসির গাইডলাইন অনুযায়ী কেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও হস্টেলে সিসি ক্যামেরা নেই, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। কার্যত সেকারণেই ক্যাম্পাস ও হস্টেল সিসি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই বুদ্ধদেব সাউ যাদবপুরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। সূত্রের খবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও হস্টেল মিলিয়ে ১০ জায়গায় মোট ২৬টি সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সূত্রের খবর, ক্যাম্পাসের ১ থেকে ৫ নম্বর গেটে নজরদারি চালাতে ১০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এছাড়াও গাড়ির নজরদারিতে ২টি এএনপিআর ক্যামেরা বসানো হবে। জানা গেছে, ১, ২ ও ৩ নম্বর গেটে ২টি করে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। ৪ ও ৫ নম্বর গেটে ২টি করে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি ১টি করে এএনপিআর ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন জি-২০ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

এছাড়াও হস্টেলে ১১টি সিসি ক্যামেরা ও ৩টি এএনপিআর ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ছেলেদের মেন হস্টেলে ২টি সিসি ক্যামেরা ও একটি এএনপিআর ক্যামেরা বসানো হবে। মেয়েদের মেন হস্টেলে ৩টি সিসি ক্যামেরা বসবে। দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের প্রধান গেট, ক্যাব গেটে ২টি করে সিসি ক্যামেরা ও একটি করে এএনপিআর ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের বয়েজ হস্টেলে ২টি সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশ সিসিটিভি লাগানোর বিরোধিতায় সরব হয়েছে। গত মঙ্গলবারই সিসিটিভি বসানো নিয়ে ছাত্র ঘেরাওয়ের মুখে পড়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ। পড়ুয়াদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর বৈধ অনুমতি আছে কি না, তা জানতে চেয়ে তারা উপাচার্যর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল পড়ুয়ারা। কিন্তু উপাচার্য মিটিং-এ ব্যস্ত থাকায় তাদের সঙ্গে দেখা তো করেননি। উল্টে অশ্লীল ব্যবহার করেন বলেই অভিযোগ। কার্যত সেকারণেই উপাচার্যের কক্ষ ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাকি অধ্যাপকরাও পড়ুয়াদের এমন আচরণের প্রতিবাদ জানান। পড়ুয়াদের দাবি, সিসিটিভি অনুমোদনের কাগজ উপাচার্যকে দেখাতে হবে।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা