Home » যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ধৃত ১২ জনের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের পুলিশের

যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ধৃত ১২ জনের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের পুলিশের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ সেপ্টেম্বর: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। তদন্ত যতই এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য।বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। এবার ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় ধৃত ১২ জনের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করল কলকাতা পুলিশ। জানা গিয়েছে, পড়ুয়া মৃত্যুর ঘটনায় পকসো ধারা সংযুক্ত করার জন্য শুক্রবারই আলিপুর আদালতে আবেদন জানানো হয়। এরপর এদিন দুপুরে সেই আবেদন মঞ্জুর করে আদালত। ধৃতদের আদালতে তোলা হলে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সকলের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

আরও পড়ুন    তাহলে কি পৃথক রাজ্য নয়, মহকুমার স্বীকৃতি চাইছে ধূপগুড়ি?   

এদিকে, পড়ুয়া মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের পর পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করেছে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি। সেই রিপোর্টেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন ছাত্রকে পুরোপুরি বহিষ্কার করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি হস্টেলে থাকা ২৫ জন প্রাক্তনীকেও হস্টেল ছাড়তে বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ১৪০ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। সমস্ত বয়ানের ভিডিও রেকর্ডিংও করা হয়েছে। এমনকী লিখিতভাবেও উত্তর জমা নেওয়া হয়েছে। এই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক সুপারিশ করেছে কমিটি। এছাড়া যে সমস্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে কমিটির তরফে। এর পাশাপাশি র্যাগিং-এ অভিযুক্ত বেশ কয়েকজন ছাত্রকে সেমিস্টারের জন্য সাসপেন্ড করার কথাও বলা হয়েছে ওই রিপোর্টে।

ইতিমধ্যেই যাদবপুরে র্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ‘স্টেক হোল্ডার’দের সঙ্গে বৈঠকে বসেন উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ। সেই বৈঠকের পরেই মিডিয়ার ভূমিকা নিয়েই পাল্টা প্রশ্ন তোলেন যাদবপুরের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য। পড়ুয়াদের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন না করার আর্জি জানাতে বাধ্য করা হয় উপাচার্যকে। উপাচার্য বলেন,‘আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। পড়ুয়াদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কীভাবে উপাচার্য এমন কথা বললেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা মহলের একাংশ। বৈঠকে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং রুখতে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেটা অল স্টেক হোল্ডার বৈঠকে নিতে হবে। এমনকী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোথায় কোথায় সিসিটিভি বসবে সেটাও ছাত্র সংগঠনকে জানাতে হবে। ইতিমধ্যেই যাদবপুর ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর খরচ বাবদ প্রায় ৩৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করতে চলেছে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন গোটা বিষয়টি অর্থ দপ্তরের বিচারাধীন ছিল। শেষমেশ সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অর্থ দপ্তর সবুজ সংকেত দেওয়ায় এই অর্থ বরাদ্দে কোনও বাধা রইল না।

About Post Author