স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৬ জানুয়ারি: বছরের শুরুতেই ক্রীড়া জগতে নক্ষত্র পতন। প্রয়াত ব্রাজিলের কিংবদন্তী ফুটবলার মারিও জাগালো। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।ফুটবলার ও কোচ হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপ জেতা গুটিকয়েক ফুটবলারদের মধ্যে জাগালো ছিলেন অন্যতম। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা ফুটবল বিশ্ব। ফুটবলার হিসেবে দেশের হয়ে পেয়েছিলেন জোড়া বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সাল, পরপর দু’বার ব্রাজিলের বিশ্বজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ১৯৭০ সালে তাঁর প্রশিক্ষণে ফের বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে কনিষ্ঠতম কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয় করার নজির গড়েছিলেন। ফুটবলার ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতা প্রথম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। এবার না ফেরার দেশে চলে গেলেন ব্রাজিল ফুটবলারের কিংবদন্তী মারিও জাগালো।
শনিবার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মৃত্যুর খবরটি অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বিবৃতির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, “আমরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মারিও জর্জে লোবো জাগালোর মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি। তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ পিতা, স্নেহময় দাদা, স্নেহশীল শ্বশুর, বিশ্বস্ত বন্ধু, সফল পেশাদার এবং একজন মহান মানুষ। তাঁর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তাঁর সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মূহুর্ত আমরা উপভোগ করেছি।”
আরও পড়ুন স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শঙ্কর আঢ্যকে নিয়ে যাওয়া হল জোকা ইএসআই হাসপাতালে
১৯৩১ সালের ৯ অগষ্ট ব্রাজিলের আটালাইয়াতে জন্ম হয় জাগালোর। তারপর খুব কম বয়সে দেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৫০ সালে মারাকানায় আয়োজিত বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। সেদিন রক্ষী হিসেবে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ১৯ বছরের জাগালো। স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি একবার বলেছিলেন, “উরুগুয়ের বিরুদ্ধে সেই হারের দিন আমি মারাকানায় ছিলাম। আমি ছিলাম সৈন্যের ভূমিকায়। আমার দায়িত্ব ছিল লোকজনকে মাঠে নিয়ন্ত্রণ করা। সেই হারের নিস্তব্ধতা, দুঃখ এবং হতাশা আমি কখনও ভুলতে পারব না।”
৮ বছর পর সেই জাগালো দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন পেলের পাশে খেলে। সুইডেনকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। ফাইনালে নিজে গোল করার পাশাপাশি ফুটবলের সম্রাটকে দিয়েও একটি গোল করিয়েছিলেন জাগালো। ১৯৫৮ সালের পর থেকে ব্রাজিল ফুটবলের সোনার যুগ শুরু হয়েছিল। সেই দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। এরপর ১৯৬২ সালেও বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। দেশের হয়ে মোট ৩৩ ম্যাচ খেলে করেছেন ৫ গোল। ১৯৬৫ সালে পেশাদারী ফুটবল থেকে অবসরের পর বিভিন্ন ক্লাবের পাশাপাশি দেশের দায়িত্ব সামলিয়েছেন জাগালো।

১৯৭০ সালে ফের তৃতীয়বারের জন্য বিশ্বসেরা হয় ব্রাজিল। পেলে, জর্জিনিয়ো, কার্লোস আলবার্তোদের নিয়ে গড়া সেই দলের কোচ ছিলেন ৩৮ বছরের জাগালো। একটা সময় যাদের সঙ্গে জুটি বেঁধে মাঠে ফুল ফুটিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিল জাতীয় দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে ডাক পড়ে জাগালোর। কোচ কার্লোস আলবার্তো পেরেইরার সঙ্গে জুটি বেঁধে সে বার ব্রাজিলের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ে দারুণ অবদান ছিল তাঁর। ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের একমাত্র সদস্য হিসেবে তিনিই একমাত্র জীবিত ছিলেন। স্বভাবতই তাঁর প্রয়াণে একটি যুগের অবসান ঘটল।


More Stories
মেরা কুছ সামান তুমহারে পাশ পড়া হ্যায়, প্রয়াত আশা ভোঁসলে
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
প্রয়াত কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ আবু হাশেম খান চৌধুরী ওরফে ডালু বাবু