সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ জানুয়ারিঃ ফের আয়কর অভিযান। শিক্ষক নিয়োগ, পুর নিয়োগ দুর্নীতির মাঝেই কয়লা পাচার মামলায় অভিযান শুরু আয়কর দপ্তরের। এবার পুরুলিয়ার দুই কোল ফ্যাক্টরিতে হানা দিল আয়কর দপ্তর। ঝাড়খণ্ডের কয়লা পাচারের সঙ্গে বাংলা যোগ রয়েছে, এমনটাই দাবি আয়কর দফতরের। কার্যত সেকারণেই বোকারোর কয়লা ব্যবসায়ী অনিল গোয়েলের ফ্যাক্টরিতে হানা দেয় আয়কর আধিকারিকরা। ওই কয়লা ব্যবসায়ীর আয় বহির্ভূত সম্পত্তির সূত্র ধরেই এই অভিযান শুরু হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের তেঁতুলডিহিতে প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন চোরাই কয়লা উদ্ধার হয়। তারপরই ব্যবসায়ী অনিল গোয়েলের নাম উঠে আসে। তদন্তে নেমে ইডি জানতে পারে যে, পুরুলিয়ায় তাঁর একাধিক কোল ফ্যাক্টরি রয়েছে।
আরও পড়ুন মহিলাদের মধ্যে বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি, হৃদপিণ্ড তরতাজা রাখতে আজ থেকেই মেনে চলুন এই টিপস
এর মধ্যে সাঁওতালডি থানার দান্দুয়া, পাড়া থানার দুবড়া, জয়পুর থানার চাষ মোড়ের কাছে নারায়ণপুর ও বাঁধডির ফ্যাক্টরিতেও হানা দেয় আয়কর আধিকারিকরা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী,চাষ মোড়ের কাছে নারানপুর এবং বাঁধডি দুটি ফ্যাক্টরিতে আয়কর তল্লাশি চলছে। বৃহস্পতিবার দীর্ঘক্ষণ ধরে চলছে তল্লাশি। রাতভর তল্লাশি চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও তল্লাশিতে কী কী উদ্ধার হয়েছে তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডের একাধিক দুর্নীতির তদন্তের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে বাংলায়। কিছুদিন আগেই ঝাড়খণ্ডের গেমিং অ্যাপ দুর্নীতে অভিযুক্ত দুজনের হদিশ মিলেছিল নিউটাউন থেকে। উদ্ধার হয় কোটি কোটি টাকা। এবার ঝাড়খণ্ডে কয়লা পাচারে অভিযুক্তর আয় বহির্ভূত সম্পত্তির খোঁজ করতে পুরুলিয়ায় হানা দিল আয়কর দপ্তর। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই রানীগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোহরাব আলির বাড়িতে আয়কর দপ্তর হানা দেয়। তৃণমূল বিধায়কের গোটা বাড়ি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘিরে ফেলে। বিধায়কের বাড়ি ছাড়াও আসানসোল, দুর্গাপুর ও রানিগঞ্জের আরও ছয়-সাত জায়গায় দিনভর চলে তল্লাশি অভিযান। গোটা ঘটনায় এলাকা জুড়ে তৈরি হয় তীব্র চাঞ্চল্য।
জানা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা রানীগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক সোহরাব আলির বার্নপুরের বাড়ি সহ বেশ কিছু জায়গায় এই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছিল। একটা সময়ে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পেশায় লোহার কারবার করতেন সোহরাব। বার্নপুর ইস্পাত কারখানার সঙ্গেও তাঁর যোগ ছিল বলে জানা গিয়েছে। একাধিকবার তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। ২০১১ সালে তৃণমূলের টিকিটে বিধানসভা ভোটে লড়াই করেন তিনি। জিতেও যান। ২০১৬ সালে ফের তাঁকে টিকিট দেয় শাসকদল। অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ডের কংগ্রেস সাংসদ ধীরজ সাহুর বাড়ি, অফিস ও গুদামসহ একাধিক জায়গায় চলে আয়কর তল্লাশি। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া টাকার অঙ্ক ইতিমধ্যেই ৪০০ কোটি পার করেছে। আয়কর আধিকারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ধীরজ সাহুর পৈত্রিক বাড়ির নীচে গোপন কুঠুরিতে লুকানো রয়েছে বিপুল ধন সম্পত্তি। সেই বিপুল ধন সম্পত্তির খোঁজেই আনা হয়েছে জিও সার্ভিলেন্স মেশিন।


More Stories
ময়নাগুড়িতে গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২ তরুণী , আহত ৫
মধ্যমগ্রামে ভয়াবহ আগুন, মৃত্যু ১
রাজনীতির উর্দ্ধে উঠে নেতা যখন পরীক্ষার্থীদের মুশকিল আসান