সময় কলকাতা ডেস্ক, ৫ মার্চঃ সন্দেশখালিকাণ্ডে এবার ইডির স্ক্যানারে উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরাও। শেখ শাহজাহানের ‘ডান হাত’ হিসাবে পরিচিত ছিলেন উত্তম ও শিবু।তদন্তের সূত্র ধরেই শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ উত্তম ও শিবুকে জেরা করতে চায় ইডি। জানা গিয়েছে, তাদের সম্পত্তির খতিয়ান নিতেই মূলত দুজনকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইডি। কেননা উত্তর ও শিবুর বিরুদ্ধে জমি হাতিয়ে নেওয়া থেকে নারী নির্যাতন সহ বিভিন্ন অভিযোগে সরব হয়েছিলেন সন্দেশখালিবাসী। ইডির সন্দেহ, শাহজাহান বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, এমনকী, ভুয়ো সংস্থার মাধ্যজমেও একাধিক দুর্নীতির টাকা পাচার করেছেন। এমনকী, বিদেশে শাহজাহানের দুর্নীতির টাকা পাচার হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই এই টাকা পাচারের ব্যারপারে শাহজাহান যে তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর উপর নির্ভর করতেন, সেই ব্যা পারে ইডি আধিকারিকরা অনেকটাই নিশ্চিত। ইতিমধ্যেই ধৃত দু’জনকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার ব্যা পারে রাজ্য পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করছে ইডি। উত্তম ও শিবু দুজনেই শেখ শাহজাহানের কতটা ঘনিষ্ঠ ছিলেন, সেই তথ্য্ও সংগ্রহ করতে চায় তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন দুরন্ত দেবজিৎ, বাঙালি গোলরক্ষকের হাতে হার লিগ শীর্ষে থাকা ওড়িশার
প্রসঙ্গত, সন্দেশখালিকাণ্ডে দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ৫৬ দিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহানকে। মিনাখাঁ থানায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর এদিনই শাহজাহানকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। আদালত শেখ শাহজাহানের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। ইতিমধ্যেই সন্দেশখালির মূল মাস্টারমাইন্ড শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ১১টি ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তার মধ্যে যেমন রয়েছে জামিন অযোগ্য ধারা, তেমনই রয়েছে মানবপাচার ও দেহব্যবসার মতো গুরুতর অভিযোগ। জানা গিয়েছে, মিনাখাঁ থানার পুলিশ শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে ১৪৭/ ১৪৮/ ১৪৯/ ৩৪১/ ১৮৬/ ৩৫৩/ ৩২৩/ ৪২৭/ ৩৭০/ ৫০৬/৩৪- মোট ১১ টি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলার রুজু করে বসিরহাট মহকুমা আদালতে পাঠিয়েছে। এদিন পুলিশ শাহজাহানের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজত চেয়েছিল। তবে বসিরহাট মহকুমা আদালত শেখ শাহজাহানের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এদিন সাদা কুর্তা পাজামা পরে আদালতে হাজির হতে দেখা গিয়েছিল সন্দেশখালির ‘বাঘ’কে।
গোটা আদালত চত্বরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। পাশাপাশি শাহহাজানের বাড়িতেও প্রচুর পুলিশ ও RAF মোতায়েন করা হয়েছিল। এদিন, শাহজাহানের মামলাটি ‘স্পেশাল কেস’ হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। এজলাসে এদিন শেখ শাহজাহান জেরায় তাঁর নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। রাজ্য পুলিশ আদালতে সেই নথিই জমা দিয়েছে। আদালতে জমা পুলিশের নথিতে শাহজাহানের স্বীকারোক্তির উল্লেখ রয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে একাধিক প্রমাণ পেয়েছে। পুলিশ শাহজাহানের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। পুলিশের কাছে সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহানের দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ৫ জানুয়ারি, অর্থাৎ যেদিন রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি চালিয়েছিলেন, সেদিন ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন শেখ শাহজাহান। ইডি আধিকারিকরা সিআরপিএফ জওয়ান নিয়ে যাওয়ার পর তাঁর মনে হয়েছিল, ইডি তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে। ইডি-র হাতে গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি অনুগামীদের হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকী তাঁদের জিনিসপত্রও লুঠের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে পুলিশি জেরায় শেখ শাহজাহান স্বীকার করে নিয়েছেন


More Stories
আই-প্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি
যুদ্ধ : মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ ফাইলের রহস্য ও ইডি-র ‘ডেটা ট্রান্সফার’!
আইপ্যাকে ইডির হানাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসা বলে আখ্যা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের