Home » টাকার বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় কৃষ্ণনগরে মহুয়া মৈত্রের দলীয় কার্যালয়ে সিবিআই হানা

টাকার বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় কৃষ্ণনগরে মহুয়া মৈত্রের দলীয় কার্যালয়ে সিবিআই হানা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৩ মার্চঃ টাকার বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় শনিবার সাত সকালে মহুয়া মৈত্রের বাবার কলকাতার বাড়িতে সিবিআই হানা দিয়েছিল। এবার কৃষ্ণনগরে মহুয়া মৈত্রের দলীয় কার্যালয়ে হানা দিলেন সিবিআই আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, কৃষ্ণনগরের সিদ্ধেশ্বরী তলায় যেখানে মহুয়া থাকেন সেখানে এসেছেন সিবিআইয়ের পাঁচ সদস্যের একটি দল। ইতিমধ্যেই তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেলেছেন ৮ থেকে ১০ জন জওয়ান। তল্লাশি চলছে গোটা বাড়িতে। সূত্রের খবর, এই বাড়িতে মহুয়া খুব একটা থাকেন না। বেশিরভাগ সময় থাকেন করিমপুরের বাড়িতে। সিদ্ধেশ্বরী তলার পর সিবিআই করিমপুরের বাড়িতে যাবে কিনা, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছুই জানা যায়নি। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে করিমপুরের বাড়িতে ছিলেন মহুয়া। এরপর দলীয় প্রচারে বেরিয়ে যান।

আরও পড়ুন   Mahua Maitra: টাকার বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় মহুয়া মৈত্রের কলকাতার বাড়িতে সিবিআই হানা

উল্লেখ্য, টাকার বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় শনিবার সিবিআই মহুয়া মৈত্রের বাবা দীপেন্দ্রলাল মিত্রের আলিপুরে ফ্ল্যাটে যান। এই আবাসনের নয় তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকেন মহুয়া মৈত্রের বাবা। সেখানেই গিয়েছেন গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, লোকপালের নির্দেশে যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল তা সামনে রেখেই মহুয়া মৈত্রের বাবার আলিপুরে ফ্ল্যাটে যান সিবিআই আধিকারিকরা। এদিন সকাল সাতটা থেকে শুরু হয়েছে তল্লাশি। প্রায় চারঘণ্টা ধরে চলছে চিরুনি তল্লাশি। এর আগে গত বৃহস্পতিবারই টাকার বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন মামলায় বহিষ্কৃত তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘ঘুষ নিয়ে প্রশ্ন’ কাণ্ডে লোকপালের নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। লোকপালের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, ২০(৩)এ ধারার অধীনে অভিযোগের সব দিকে তদন্ত করতে হবে সিবিআইকে এবং ছয়মাসের মধ্যে তদন্তের একটি রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এছাড়া সিবিআই প্রতিমাসে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পর্যায়ক্রমিক রিপোর্ট জমা দেবে।

প্রসঙ্গত, শিল্পপতি দর্শন হিরানন্দনীর থেকে উপহার এবং অর্থের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে। ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের এই অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত শুরু করে সংসদের এথিক্স কমিটি। এরপরই নিশিকান্ত এক্স হ্যান্ডলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর চিঠি পোস্ট করে মহুয়ার বিরুদ্ধে তদন্তের কথা জানিয়েছিলেন। তার জবাবে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন মহুয়া। সেই পোস্টে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ লিখেছেন, ‘তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর পাঠানো চিঠি জাল ডিগ্রিধারীর কাছে আছে শুনে খুশি হয়েছেন তিনি। অপেক্ষা করছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক কবে বিমানবন্দরের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের ঘরে ফর্জি দুবের অবৈধ অনুপ্রবেশের তদন্ত করবে।’ যদিও নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ ছিল, মহুয়া যখন ভারতে, তখন দুবাই থেকে তাঁর সংসদীয় আইডিতে লগইন করা হয়েছিল হিরানন্দনির তরফে। এতে বিঘ্নিত হয়েছে গোটা দেশের নিরাপত্তা। এ বিষয়ে ন্যাশনাল ইনফরমেটিকস সেন্টার-কে সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনতে হবে বলে দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ, দুবাইয়ের ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানির কাছ থেকে ২ কোটি টাকা ও বিভিন্ন দামি উপহার নিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এর বদলে তিনি ওই ব্যবসায়ীর সাজিয়ে দেওয়া প্রশ্নই সংসদে করতেন। লোকসভায় আদানি ইস্যু নিয়ে করা ৬৩টি প্রশ্নের মধ্যে ৫০টিরও বেশি প্রশ্ন ওই ব্যবসায়ীরই সাজিয়ে দেওয়া ছিল। এই প্রশ্নগুলি করার জন্য তৃণমূল সাংসদ তাঁর সংসদীয় ইমেইল আইডির লগ ইন ও পাসওয়ার্ডও দুবাইয়ের ব্যবসায়ীকে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

#MahuaMaitra

#latestbengalinews

#Parliamentquestioncase

About Post Author