সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩ আগস্ট: রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে , ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন দুর্নীতিতে ইডির জালে আরও এক ততৃণমূল নেতা। বৃহস্পতিবার সিজিও কমপ্লেক্সে প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর দেগঙ্গার তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করে ইডি। সেইসঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে আনিসুরের দাদা চালকল ব্যবসায়ী আলিফ নূরকেও। ইডি দাবি করেছে চারটি চালকল থেকে ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে আনিসুর ও তাঁর দাদা আলিফ। অভিযোগ এই বিপল টাকার মধ্যে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি তাঁদের নিজেদের আয়াকাউন্তে ঢুকেছে। এছাড়া তাঁদের চালকলের বিভিন্ন কর্মীর ব্যাঙ্কে ঢুকেছে মোট ১৬ কোটি টাকা। রেশন দুর্নীতি মামলায় ধৃত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমানের আত্মীয় দেগঙ্গার তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি আনিসুর রহমানের দাদা মুকুল রহমানের বাড়িতে গত মঙ্গলবার হানা দেয় ইডির আধিকারিকরা। দিনভর তল্লাশির পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি তলব করে দেগঙ্গার তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আনিসুর রহমান বিদেশকে। সেই মতো বৃহস্পতিবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরাও দেন তিনি।
আরও পড়ুন মনু ভাকের কি অলিম্পিক পদক জয়ের হ্যাটট্রিক করবেন? সারাদেশের চোখ এখন প্যারিসে
সূত্রের খবর, আনিসুর ও মুকুলের চালকল থেকে ম্যারাথন তল্লাশির পর উদ্ধার হয় রাজ্য সরকারের খাদ্য দফতরের সিল যুক্ত নথি। এছাড়াও উদ্ধার বাকিবুর রহমানের চালকলের নথিও। ইডি সূত্রে খবর, আনিসুর ও মুকুলের চালকল ছাড়াও বি.এড, ডি.এলএড কলেজ রয়েছে। রয়েছে আবাসিক মিশনও। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, আনিসুর ও মুকুল হলেন বাকিবুর রহমানের মামাতো ভাই। এই আনিসুর আবার তৃণমূলের ব্লক সভাপতিও। কীভাবে খাদ্য দফতরের নথি আনিসুরের চালকলে পৌঁছল? তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
উল্লেখ্য, রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে মুকুল রহমানের বাড়ি ছাড়াও মঙ্গলবার রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বারিক বিশ্বাসের বাড়ি, রাইস মিলে হানা দেয় ইডির আধিকারিকরা। এর আগে সোনা পাচার, গোরু পাচার সহ কয়লা পাচার মামলাতেও নাম জড়িয়ে ছিল বারিক বিশ্বাসের। এমনকী, ২০১৪ সালে সোনা পাচার মামলায় তিনি গ্রেফতারও হন। তারই মধ্যে এবার রেশন বন্টন দুর্নীতিতেও নাম জড়ায় বারিক বিশ্বাসের। রেশন বন্টন দুর্নীতির বিপুল পরিমাণে টাকা সোনা এবং ইঁট ভাটার ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিল বারিক বিশ্বাস, এমনটাই দাবি ইডির।
প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে আগেই ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমান। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের পরই উঠে এসেছিল বারিক বিশ্বাস, মুকুল রহমানদের নাম। এঁরা সকলেই চালকলের মালিক, এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।


More Stories
মমতা -অভিষেককে ৩০ হাজার করে ভোটে হারাতে না পারলে নাকখত দেবেন হুমায়ুন কবীর
ভাষা-সন্ত্রাস : মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিজেপি
আইনশৃঙ্খলার পাঠ : বিহারের কাছে কি পশ্চিমবঙ্গকে শিখতে হবে ?