সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৪ সেপ্টেম্বরঃ বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট দ্বারা যাচাই করার পরই ভাইরাল অডিও কাণ্ডে গ্রেফতার হয়েছেন বাম যুব নেতা কলতান দাশগুপ্ত। আন্দোলনকারীদের উপর হামলার চক্রান্তে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। কলতানের গ্রেফতারির প্রসঙ্গে এবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। কলতান শাসকের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি ধৃত বামনেতাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলেও দাবি করেছেন মীনাক্ষী।

সংবাদ মাধ্যমে ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী বলেছেন, “কলতান সম্পূর্ণ নির্দোষ। ভাইরাল অডিওটি আসলে শাসক দলের ষড়যন্ত্র। আন্দোলনকে ছত্রভঙ্গ করতেই এই আচরণ করেছে তৃণমূল সকরার।” এরসঙ্গে তিনি যোগ করেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী ভয় পেয়েছেন। গদি হারানোর ভয়। তবে ওনার মনে রাখা উচিত এই লড়াই গদি দখলের জন্য নয়। দুর্নীতি আর দুষ্কৃতীরাজের বিরুদ্ধে লড়াই। কমরেড কলতানকে ওঁরা গ্রেফতার করেছে। এসব করে শাসকদল যদি ভেবে থাকে বিনীত গোয়েলের অপসারণের দাবি থেকে আমরা সরে দাঁড়াব, তবে তাঁরা ভুল ভাবছে।” বামনেত্রীর হুঁশিয়ারি, “একে একে সকল বাম নেতা-নেত্রীদের জেলে ঢুকিয়ে দিলেও আন্দলন চলবে।” তাঁর সংযোজন,“জুনিয়র থেকে সিনিয়র ডাক্তার ও গোটা রাজ্যের সাধারণ মানুষ রয়েছেন এই আন্দোলনে। আমরাও তাঁদের সঙ্গে রয়েছি।” পাশাপাশি, শনিবারের ডাক্তারদের ডাকা রাত দখল কর্মসূচীতে যোগ দিয়ে ঐতিহাসিক মুহূর্ত গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন মীনাক্ষী।
আরও পড়ুনঃ পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা
আরও পড়ুনঃ আরজিকর-সহ রাজ্যের সব হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা মমতার
সম্প্রতি তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছিলেন। যে অডিওতে জুনিয়ার ডাক্তারদের ওপর আক্রমনের ফন্দি আঁটতে শোনা গিয়েছিল দুই ব্যক্তিকে। প্রথমে যার সত্যতা নিয়ে জল্পনা থাকলেও বিধাননগর কমিশনারেটের ডিসি অনিশ সরকার জানিয়েছেন অডিওটি সম্পূর্ণ বৈধ। কার্যত শুক্রবার রাতেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সঞ্জীব দাসকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তারপর শনিবার গ্রেফতার করা হয় ডিওয়াইএফআইয়ের যুবনেতা কলতানকে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বাম নেতার বক্তব্য, “এটা একটা ষড়যন্ত্র, আসল ঘটনা থেকে নজর সরানোর চেষ্টা মাত্র।” অভিযুক্ত কলতান দাশগুপ্তকে শনিবার বিধাননগর আদালতে তোলা হয়। তাঁর জামিনের আর্জি খারিজ করে দেন বিচারক। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে আরও দু’জন অভিযুক্তকে সাতদিনের পুলিশি হেফাজত দেওয়া হয়েছে।


More Stories
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
বোমা-বন্দুক আনব, তৃণমূল নেতাদের গণপিটুনির হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের