Home » তোমায় পড়েছে মনে..

তোমায় পড়েছে মনে..

সময় কলকাতা ডেস্কঃ জিন্দেগি এক সফর হ্যায় সুহানা, ইয়াহা কল ক্যায়া হো কিসনে জানা .. সত্যিই। এই একটা জীবনে কত সফরই না আমরা করি। সেই সফরে কখনও এগিয়ে যায়, কখনও পিছিয়ে থাকি কয়েক হাজার মানুষের মত। কখনও একই জায়গায় থিতু হয়ে থেকে একঘেঁয়ে জীবনটা কাটিয়ে ফেলি। কিন্তু আজ হঠাৎ জীবনের গল্প কেন? কারণ এককালে ভারতবর্ষের বুকে এমন একজন সেলিব্রিটির জন্ম হয়েছিল, যিনি এই জীবনের সফরকে কতরকমভাবে অনুভব করা যেতে পারে, তা শিখিয়েছিলেন।

এক চলমান রোলারকোস্টারের মত আঘাত, বিচ্ছেদ, বেদনা, সুখ, শান্তি – জীবনের যাবতীয় ওঠা পড়ার সাক্ষী ছিলেন তিনি। তাতে অবশ্য তাঁর প্রাণোচ্ছ্বল হাসিমাখা সুরেলা কন্ঠে কোনও প্রভাব পড়েনি। আজীবন তিনি মজা করেই সবটুকু আস্বাদ গ্রহণ করেছিলেন। কথা হচ্ছে সুরের জাদুকর কিশোরকুমারের। তাঁর আজ ৯৩ তম জন্মদিন।

এই প্রবাদপ্রতিম শিল্পীর বাড়ির সামনে লেখা থাকত ‘কিশোর হইতে সাবধান’। একবার চলচিত্র পরিচালক এইচএস রাওয়াল একটি সিনেমা নিয়ে কথা বলার স্বার্থে কিশোর কুমারের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তিনি তো সেই বোর্ডটাই পড়েননি। তাই টেরই পাননি কথাবার্তার পর বেরোনোর সময় রাওয়ালের হাত কামড়ে দিয়েছিলেন কিশোর কুমার। কেন এমন কাণ্ড করলেন তিনি, এমনটা জানতে চাইলেই কিশোর কুমার বলেন, বাড়ির বাইরে টাঙানো বোর্ডটা দেখে আসা উচিত ছিল পরিচালকের।
সঙ্গীতশিল্পীদের খাওয়া দাওয়া নিয়ে অনেক বিধিনিষেধের কথা আমরা জানি। কিন্তু কিশোর কুমার সেই সব মোটেও পাত্তা দিতেন না। বরং পাতে লুচি, আলুরদম, মাংস, বেগুনভাজা না পেলে তাঁর মন আনচান করত। ইলিশ মাছের প্রতি আলাদাই প্রেম ছিল কিশোর কুমারের। এমন অনেকবার হয়েছে, রেকর্ডিং-এর জন্য রাজি করাতে রীতিমত মাছের নামে ঘুষ দিতে হত এই শিল্পীকে।
যদিও না পসন্দ খাবারের তালিকায় ছিল বিরিয়ানি এবং সিঙ্গারা। বিশেষত হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রীতিমত সিঙ্গারাকে সমঝে চলতেন গায়ক। আর বিরিয়ানি নাকি সুরের দুশমন। তিনি মনে করতেন, রেকর্ডিং হওয়ার আগে যদি গলায় বিরিয়ানি পড়ে, তাহলে সেদিন আর গলা দিয়ে সুরই বেরোবে না!

বহুগুনের অধিকারী কিশোর কুমারের ব্যক্তিগত জীবনও ছিল বেশ রঙিন। তাঁর প্রেম, বিয়ে সবটাই বলিউডে চর্চার নিয়মিত বিষয় ছিল। কিন্তু সঙ্গীতজীবনে তাঁর হিন্দির পাশাপাশি মারাঠি, কানাড়া, মালয়ালম এবং বাংলা ভাষায় গাইতে পারার অসামান্য দক্ষতাই জনগনের প্রাণের মানুষ করে তুলেছিল।

About Post Author