সময় কলকাতা ডেস্ক:রবিবার থেকে লাগাতার বৃষ্টি কেরালায়। প্রবল বৃষ্টির কারণে জলমগ্ন কেরালার বিভিন্ন জেলা। বন্যা পরিস্থিতির কারণে বিপর্যস্ত পরিবহন এবং রেল ব্যবস্থা। সোমবার অবিরাম বৃষ্টিতে ইদুক্কি ,পাথানামথিট্টা, কোয়াট্টাম, কোচি ,এর্নাকুলাম, ভিটিলা এন্ডাপালি সহ একাধিক জায়গা জলমগ্ন ।পাঁচ ঘন্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে ১৫৪.২ মিলিমিটার।
ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ অর্থাৎ আইএমডি আগামী পাঁচ দিন কেরালায় বিভিন্ন অংশে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। আলাপ্পুঝা, কোন্টায়াম, এর্নাকুলাম ,ইদুক্কি এবং ত্রিগুরে জারি করেছে হলুদ সতর্কতা। এর্নাকুলাম স্টেশন জলমগ্ন থাকার কারণে একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
কোল্লাম- এর্নাকুলাম মেমু বন্ধ রাখা হয়েছে। মঙ্গলা এক্সপ্রেসকে এর্নাকুলাম স্টেশনেই দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দূরপাল্লার ট্রেনের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে পাশাপাশি একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ের থেকেও দেরিতে চলছে।

সামাজিক প্রচার মাধ্যমে কেরালার বন্যা
বিভিন্ন জনপদের জলমগ্ন চিত্র ইতিমধ্যেই সামাজিক প্রচার মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। যার মধ্যে প্রতীকি “ভাল্লাম কালি”অর্থাৎ নৌকা বাইচের একটি দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে। জলমগ্ন এর্নাকুলাম বাস স্ট্যান্ডে কিছু মানুষ প্রতিকী বাইচ প্রতিযোগিতা করছেন এমন অভিনয়ের দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক প্রচার মাধ্যমে। এক কথায় বলতে গেলে কেরালার বন্যা পরিস্থিতি এই মুহূর্তে অত্যাধিক ভয়ংকর।
কতটা ক্ষতি হয়েছে কেরালার
কেরালা এমনিতেই বৃষ্টি প্রবণ অঞ্চল। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ২৫০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ৯ই আগস্ট থেকে খেপে খেপে বৃষ্টি হচ্ছে কেরালায়। গত রবিবার থেকে লাগাতার বৃষ্টিতে কেরালার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্ন। প্রায় ২০০০০ কোটি টাকার খতির সম্ভাবনা। জলমগ্ন ৯ লক্ষ হেক্টর কৃষি জমি। ইতিমধ্যেই বন্যার কারণে প্রায় ৪০০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ১১ লক্ষ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণ শিবিরে। বন্যাকালীন পরিস্থিতিতে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব। বিভিন্ন হাসপাতাল জলমগ্ন থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা পরিষেবা। বন্যা মোকাবিলায় সরকারি তরফ থেকে নেওয়া হয়েছে উপযুক্ত ব্যবস্থা। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর ,সেনাবাহিনীর জওয়ানেরা লাগাতার কাজ করে চলেছেন বিপর্যয় মোকাবিলায়।
এটা কি ম্যান মেড বন্যা?
কেরালার এই ভয়াবহ বন্যার কারণ কিছুটা হলেও মনুষ্য সৃষ্ট। পরিবেশ ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং মানুষের অবিমৃস্যকারিতার কারণেই পশ্চিমঘাট পর্বতমালা যা কেরালার পাশেই অবস্থিত সেই পর্বতমালা আজ বিপন্ন।

মানুষের অত্যাধিক লোভের কারণে ক্রমাগত চলছে পাথরকাটা আর খনিজ সম্পদ আহরণ। নদীর স্বাভাবিক ছন্দ স্তব্ধ করে তৈরি করা হচ্ছে বড় বড় বাঁধ যার কারণেই হচ্ছে ভূমিধস। সরকারি উদাসীনতা আর কিছু মানুষের লোভ লালসার কারণেই আজ পশ্চিমঘাট পর্বতমালা বিপন্ন তারই ফলস্বরূপ এই ভয়াবহ বন্যা।
বদল হয়েছে বৃষ্টির চরিত্র
আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টি তার চরিত্র বদল করেছে। আগে যে পরিমাণে বৃষ্টি হত সারা বছরজুড়ে ,বৃষ্টিপাতের সেই পরিমাণ এখনও একই রয়েছে। কিন্তু যে বৃষ্টি সারা বছর ধরে হত সেই বৃষ্টি এখন কয়েকদিনে হওয়ার কারণেই ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হচ্ছে কেরালা।


More Stories
যুদ্ধের জাঁতাকলে ভারত
আবার বিজয়ী, ইতিহাস গড়ল ভারত
নাশকতার ছক : রাজধানীতে বিস্ফোরণের আশঙ্কা , জারি হাই অ্যালার্ট