Home » কেন অবরোধ প্রত্যাহার কুড়মি সমাজের?

কেন অবরোধ প্রত্যাহার কুড়মি সমাজের?

সময় কলকাতা ডেস্কঃ অবশেষে ফিরল স্বস্তি। মহালয়ার দিন সকালে পশ্চিম মেদিনীপুরের খেমাশুলি এবং পুরুলিয়ার কুস্তাউর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করল কুড়মি সমাজ। শনিবারই প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের একটি বৈঠক হয়। তারপরই এই সিদ্ধান্ত নেন আন্দোলনকারীরা। একাধিক দাবিতে টানা পাঁচ দিন ধরে রেল-সড়ক অবরোধ চলছিল। তার জেরে চরম দুর্ভোগের স্বীকার হয়েছে নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে বহু পর্যটক। মঙ্গল্বার থেকে শনিবার পর্যন্ত রেলের তরফে মোট ২৫০টি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল। রবিবার আন্দোলন উঠে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে সেখানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে জানা গিয়েছে। অবরোধ ওঠার পর সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে ঝাড়গ্রাম লোকাল ছাড়ে খেমাশুলি স্টেশন থেকে। পাশাপাশি ট্রাক চলাচলও শুরু হয়েছে বলেই সূত্রের খবর।

কুড়মি আন্দোলনের নেতা রাজেশ মাহাতো বলেন, ‘‘আপাতত অবরোধ কর্মসূচি তুলে নেওয়া হল। তবে দাবিপূরণের জন্য আন্দোলন চলবে। জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠকের পর অবরোধ তুলে নেওয়া হল। সরকার আমাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছে।’’

শনিবার দুপুরেই কুড়মি জনজাতির নেতা অজিত প্রসাদ মাহাতো অবরোধ কর্মসূচি তুলে নেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। জেলা প্রশাসনের বৈঠকে আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, তাঁর ঘোষণার পর বেশ কিছু জায়গায় অবরোধ উঠে গেলেও পশ্চিম মেদিনীপুরের খেমাশুলি এবং পুরুলিয়ার কুস্তাউরে ওঠেনি অবরোধ। তারপরও বিক্ষোভ চালিয়ে গিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পরই মিলল সমাধানের সূত্র।
প্রসঙ্গত,তপশিলি উপজাতি তালিকাভুক্ত করার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন সামিল হয়েছিল কুড়মি মাহাতো সম্প্রদায়ের সামাজিক সংগঠনগুলি। মঙ্গলবার একাধিক দাবিতে রেল অবরোধে সামিল হয়েছিল কুড়মি সম্প্রদায়। ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনে ব্যাহত হয় রেল পরিষেবা। এমনকী ব্যাহত হয়েছিল যান চলাচলও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয় ব়্যাফও। এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামেও।
কুড়মি জাতিকে তপশিলি উপজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা, কুড়মালি ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা, সারণা ধর্মের কোড চালু করার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেল অবরোধ কর্মসূচি নিয়েছিল আদিবাসী কুড়মি সমাজ। কুড়মালি ভাষায় যে কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘রেল টেকা ও ডহর ছেঁকা’। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ধামসা মাদল নিয়ে রেল লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছিল হাজার হাজার মানুষ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় প্রচুর রেল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তাদের দাবি, যতদিন না পর্যন্ত তাদেরক দাবি মানা হচ্ছে ততক্ষণ রেললাইন এবং জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছিল কুড়মি সমাজের সদস্যরা।
১৯৫০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর কুড়মি জাতিকে তপশিলি উপজাতি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তার আগে অবশ্য এই কুড়মি জাতি তপশিলি উপজাতি তালিকা ভুক্ত ছিল। কিন্তু, ঠিক কী কারণে এই কুড়মি জাতিকে তপশিলি উপজাতি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল তা অবশ্য জানা যায়নি। এবার সেই তালিকা ভুক্ত করার দাবিতেই বিক্ষোভে সামিল হন কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষ।

About Post Author