Home » নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডি-র স্ক্যানারে আরও এক রহস্যময়ী

নিয়োগ দুর্নীতিতে ইডি-র স্ক্যানারে আরও এক রহস্যময়ী

সময় কলকাতা ডেস্ক,২১ মার্চঃ নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের পরই ইডির নজরে ছিল অয়ন। অয়ন গ্রেফতার হতেই ইডির হাতে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইডি-র স্ক্যানারে এবার উঠে এল আরও এক রহস্যময়ী নারী শ্বেতা চক্রবর্তীর নাম। সল্টলেকের এফডি ব্লকে অয়নের অফিস থেকে শ্বেতার গাড়ি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি উদ্ধার করেন ইডি আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, রাজ্যের বাইরে একাধিক রিসর্ট রয়েছে অয়ন ঘনিষ্ঠ শ্বেতার নামে। ইতিমধ্যেই শ্বেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ২৫ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকেও কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। শ্বেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এত টাকা কোথা থেকে এসেছে, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।

আরও পড়ুন  হাওড়া ষ্টেশন থেকে উদ্ধার কোটি টাকার সোনার গয়না

সূত্রের খবর,রহস্যময়ী শ্বেতার বাড়ি নৈহাটির বিজয়নগরে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মডেলিং পেশার সঙ্গে যুক্ত। সেই সূত্র ধরেই ২০১৭ সাল থেকে শ্বেতার সঙ্গে অয়ন শীলের পরিচয়। এদিকে,মডেলিংয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কামারহাটি পুরসভার সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বিভাগে চাকরি করেন শ্বেতা চক্রবর্তী। সোমবার অয়নের বাড়ি থেকে যে সমস্ত নথি উদ্ধার হয়েছে, সেখানেই পুরসভার চাকরি সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়েছে। সেই নথি থেকেই শ্বেতা চক্রবর্তীর নাম উঠে এসেছে। ইডি-র দাবি, রাজ্যের ৬০ পুরসভা মিলিয়ে পাঁচ হাজার চাকরি বিক্রি হয়েছে। আর তার বিনিময়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। এর পাশাপাশি শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সল্টলেকের এফডি ব্লকে তল্লাশি চালিয়ে অয়ন শীলের বাড়ি থেকে ইডি ৩২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকবই ও নথি উদ্ধার করেছে। যার মধ্যে একটি গ্রামীণ ব্যাংক, তিনটি সরকারি ব্যাংক ও দু’টি বেসরকারি ব্যাংকের নথি পাওয়া গিয়েছে।

আরও পড়ুন  ফের অসুস্থ অনুব্রত মণ্ডল, নিয়ে যাওয়া হল হাসপাতালে


উল্লেখ্য,সোমবার ভোররাতে অয়ন শীলকে গ্রেফতার করেছে ইডি। জানা গিয়েছে, একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর,অয়নকে শান্তনুর মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে। শান্তনু ঘনিষ্ঠ এই প্রোমোটারকে শনিবার ৯টা নাগাদ আটক করে ইডি। এরপরই অয়নের অফিস থেকে ৪০০ ওএমআর শিটের ফটোকপি উদ্ধার করে ইডি। সেইসঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের নামের তালিকা,অ্যাডমিট কার্ড ও একাধিক নথিও উদ্ধার হয়েছে। এমনকী শান্তনু ও অয়নের যৌথ সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলেও ইডি সূত্রে খবর। এছাড়াও পুরসভার চাকরি সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, নিয়োগ দুর্নীতির যাবতীয় নথি লুকিয়ে রাখা ছিল অয়ন শীলের বাড়িতেই। অয়নের মাধ্যমেই বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। একজন প্রোমোটারের বাড়ি থেকে কীভাবে নিয়োগের নথি উদ্ধার হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠছে।

About Post Author