সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ মেঃ আন্দোলনের ১০০ দিনে পা রেখে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবিতে শনিবার প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন আন্দোলনকারীরা। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট ধরে হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিল করে সেখানেই পথসভা হয়। আর সেই সভাই শনিবার কার্যত ‘রাম-বাম’ জোটের ঐক্যমঞ্চে পরিণত হতে দেখল রাজ্যবাসী। আন্দোলনকারীদের বক্তব্যের চেয়েও নজরে এলো বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী, কংগ্রেস নেতা কৌস্তভ বাগচী, আবদুল মান্নান, বাম নেতা সৃজন ভট্টাচার্যদের বক্তব্য। প্রত্যেকেই আন্দোলনকারীদের দাবির পক্ষে সুর চড়ান। এভাবে ডিএ-র দাবিতে সরব কণ্ঠ রোধ করা যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

কেন্দ্রীয় হারে বকেয়া ডি-এর দাবিতে শনিবার সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সরকারি কর্মীরা ডাক দিয়েছিল মিছিলের। এই মিছিল শুরু হাজরা মোড় থেকে। হাজরা রোড হয়ে কালীঘাটের ফায়ার স্টেশন ডানদিকে হরিশ মুখার্জি রোড হয়ে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর বাড়ির সামনে দিয়ে যাবে এই মিছিল। এই এলাকা স্পর্শ কাতর। এই রাস্তা দিয়ে মিছিল যাওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন রাজ্য পুলিশ। ইতিমধ্যেই ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে এই এলাকায়। অন্যদিকে হাইকোর্টেও আবেদন করেছে আন্দোলনকারীরা। হাইকোর্টের বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন কোনরকম কুরুচিকর মন্তব্য করা যাবে না। কোনরকম অশান্তি সৃষ্টি করা যাবে না। দুপুর বারোটা থেকে চারটের মধ্যে শেষ করতে হবে এই মিছিল। যাতে কোন রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। পুলিশি নিরাপত্তায় মোরা রয়েছে গোটা এলাকা। ডিসি সাউথ ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘুরে দেখছেন গোটা এলাকা। হুগলি, দুই মেদিনীপুর, আসানসোল সহ সব জায়গা থেকে সরকারি কর্মী আন্দোলনকারীরা জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছেন।
আরও পড়ুন বকেয়া ডিএ-র দাবিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মহা মিছিল

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার দাবিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে টানা ১০০ দিন ধরে আন্দোলনে নেমেছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মতলার শহিদ মিনারে চলেছে তাঁদের আন্দোলন। মাস খানেক আগে তাঁরা অনশনও শুরু করেছিলেন। এর আগে গত ১৫ মার্চ ডিএ মামলার শুনানি পিছিয়ে ২১ মার্চ সময় দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। সেসময় চূড়ান্ত শুনানির আশায় দিল্লি গিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু ওইদিনও তাঁদের আশাহত হতে হয়। সর্বোচ্চ আদালত জানায় আগামী ১১ এপ্রিল এই মামলার শুনানি হবে। এরপর ফের পিছিয়ে যায় এই মামলার শুনানি। আগামী ২২ মে শীর্ষ আদালতে গরমের ছুটি পড়ে যাচ্ছে। গরমের ছুটি কাটিয়ে ৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট খুলবে। তারপরেই ডিএ মামলা শুনবে সর্বোচ্চ আদালত।

প্রসঙ্গত, গত বছরের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের ৩১ শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছিল। সেই মামলারই শুনানি ছিল। রাজ্যের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে কর্মচারিদের ডিএ দিতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। যা রাজ্য সরকারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের দাবি, ডিএ তাঁদের অধিকার। তা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। হাইকোর্টের নির্দেশের পরও রাজ্য সরকার ডিএ না দেওয়ায় সম্প্রতি আন্দোলনে নেমেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলির যৌথমঞ্চ। ধর্মতলায় শহিদ মিনারের নিচে তাঁরা অনশন আন্দোলন শুরু করেছেন। বাম-কংগ্রেস, বিজেপি-সহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল আন্দোলনকারীদের সমর্থন করছে। এরমধ্যে প্রতীকী ধর্মঘটও করেছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে বারবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় সমাধান সূত্র বের হতে দেরি হচ্ছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।


More Stories
নেতাজি ইস্যু : অনন্ত মহারাজকে উন্মাদ আখ্যা দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত!
প্রাকৃতিক বিপর্যয় : লাইফলাইন এনএইচ ৭১৭
শুভেন্দু -এনসিপিআই বৈঠক, তাৎপর্য কী?