Home » জন্ম শতবর্ষে ফিরে দেখা ‘সংলাপের জাদুকর’–কে

জন্ম শতবর্ষে ফিরে দেখা ‘সংলাপের জাদুকর’–কে

কোয়েলি বনিক,সময় কলকাতা, ১৪ মেঃ কেউ তাঁকে বলেন ‘সংলাপের জাদুকর’, কারও কাছে আবার তিনি ক্যামেরার লেন্সে দুনিয়াদারিতে এক সাহসী ও নিপুণ পরিচালক। তিনি, ‘সংলাপের জাদুকর’ মৃণাল সেন। আজ তাঁর জন্মদিন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর মাত্র ৯৫ বছর বয়সে প্রয়াণ ঘটেছিল এই বিশ্ব বরেণ্য পরিচালকের। রবিবার  কিংবদন্তি পরিচালকের ১০০ তম জন্মদিন। সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটকের পর মৃণাল সেনই এমন একজন পরিচালক যাঁর হাত ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এক নতুন ধারার প্রবর্তন হয়েছিল। জন্ম শতবর্ষের এই  বিশেষ দিনে সাহসী ও নিপুণ পরিচালক তথা ‘সংলাপের জাদুকর’, কে সময় কলকাতার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য।

রাতভোর’ ছবি দিয়ে সিনেমায় হাতেখড়ি হয় মৃণাল সেনের। যদিও সেই সময় ছবিটি তেমন সাফল্যের মুখ দেখেনি। সত্যজিৎ রায়কে যেমন সারা দুনিয়া ‘পথের পাঁচালী’র জন্য চেনে, তেমনি ‘ভুবন সোম’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘পদাতিক’, ‘এক দিন আচানক’ সহ বেশকিছু ছবির জন্য বাঙালিরা মৃণাল সেনকে মনের গহীনে রাখবে। মৃণাল সেন এমন একজন পরিচালক, যিনি বিশ্বাস করতেন সিনেমা শুধুই বিনোদনের জন্য নয়, সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে শিক্ষিত করে তোলাও যায়। তাঁর কলকাতা ট্রিলোজি অর্থাৎ ‘ইন্টারভিউ’, ‘ক্যালকাটা ৭১’ এবং ‘পদাতিক’-এই ছবি তিনটির মাধ্যমে তিনি তৎকালীন কলকাতার অস্তিত্বকে নিপুণভাবে তুলে ধরেছিলেন।

আরও পড়ুন    আজকের দিনের গুরুত্ব

মধ্যবিত্ত সমাজের নীতিবোধকে মৃণাল সেন তুলে ধরেন তাঁর খুবই প্রশংসিত দু’টি ছবি ‘এক দিন প্রতিদিন’ এবং ‘খারিজ’ সিনেমার মধ্য দিয়ে। ‘খারিজ’ ছবিটির জন্য ১৯৮৩ সালের কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হন তিনি। ১৯৮০ সালের তৈরি চলচ্চিত্র ‘আকালের সন্ধানে’। এই ছবিতে দেখানো হয়েছিল একটি চলচ্চিত্র কলাকুশলীদলের একটি গ্রামে গিয়ে ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দের দুর্ভিক্ষের উপর একটি চলচ্চিত্র তৈরির কাহিনি। কী ভাবে ১৯৪৩ এর দুর্ভিক্ষের কাল্পনিক কাহিনি মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। মৃণাল সেনের সৃষ্টির ঝুলিতে রয়েছে ‘ভুবনসোম’, ‘কোরাস’, ‘মৃগয়া’, ‘আকালের সন্ধানে’, ‘পুনঃশ্চ’, ‘পরশুরাম’, ‘একদিন প্রতিদিনে’র মতো অসামান্য সব ছবি। তাঁর শেষ ছবিটি ছিল ‘আমার ভুবন’। যেটি ২০০২ সালে পরিচালনা করেছিলেন।


মৃণাল সেন সর্বমোট ২৭টি পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি, ১৪টি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি ও ৪টি তথ্যচিত্রের পরিচালনা করেছিলেন মৃণাল সেন। কিংবদন্তী পরিচালকের ঝুলিতে রয়েছে ১৮টি জাতীয়, ১২টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কার। পাশাপাশি মস্কো, বার্লিন, কান ফেস্টিভ্যালে অসামান্য সিনেমা বানানোর জন্য পুরস্কৃত হন তিনি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বহু সম্মানে ভূষিতও হয়েছেন মৃণাল সেন। ১৯৮১ সালে তাঁকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করে ভারত সরকার। ২০০৫ সালে ভারত সরকার প্রদত্ত বিনোদন জগতের সর্বোচ্চ সম্মান দাদাসাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড পান তিনি।সাহিত্য ও শিল্পে অনস্বীকার্য অবদানের জন্য তাঁকে কম্যান্ডার অফ দ্য অর্ডার অফ আর্টস অ্যান্ড লেটারস সম্মানে সম্মানিত করেছিল ফরাসি সরকার। শুধু বাংলা নয়, হিন্দি, ওড়িয়া, তেলগু ভাষাতেও ছবি বানিয়েছিলেন পরিচালক মৃণাল সেন। প্রবাদপ্রতিম এই পরিচালক আজীবন বামপন্থায় বিশ্বাসী ছিলেন। তবে কখনও পার্টিতে যোগদান করেননি। সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেননি। তবে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত রাজ্যসভার মনোনীত সদস্যও ছিলেন এই কিংবদন্তী পরিচালক।

About Post Author