সময় কলকাতা ডেস্ক,৫ আগস্টঃ বেহালার ঘটনার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই ফের ভয়াবহ দুর্ঘটনা দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে। বেপরোয়া লরির ধাক্কায় প্রাণ গেল এক তরুণীর। সুনন্দা দাস নামে ওই তরুণী হাওড়ার নেতাজি সুভাষ রোড এলাকার বাসিন্দা। তিনি ধর্মতলায় একটি হোটেলে কাজ করতেন। জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ স্কুটি নিয়ে হেস্টিংস থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর দিকে যাচ্ছিল ওই তরুণী। সেসময়ই পিছন থেকে দ্রুত গতিতে আসা একটি লরি তাঁকে ধাক্কা মারে। লরির ধাক্কায় কার্যত পিষে যায় তাঁর দেহ। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ঘটনাস্থলেই লরি ফেলে চম্পট দেয় চালক। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তৎক্ষণাৎ সেখানে আসেন হেস্টিংস থানার কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা। এরপর তাঁরা ওই তরুণীকে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ওই তরুণীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যেই ওই ঘাতক লরিটিকে আটক করেছে হেস্টিংস থানার পুলিশ। সেইসঙ্গে চালকের খোঁজও শুরু করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালের পর ফের রাতে পুলিশের নজর এড়িয়ে কিভাবে দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়েই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দুর্ঘটনার সময় ওই লরির গতি কত ছিল, কী ভাবেই এই দুর্ঘটনা ঘটল, ইতিমধ্যেই তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার বেহালা চৌরাস্তা মোড়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় বছর সাতের পড়ুয়া সৌরনীল সরকারের। বাবার সঙ্গে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময়ে স্কুলের সামনেই দুরন্ত গতিতে আসা পুরসভার একটি মাটি বোঝাই লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে যায় সাত বছরের পড়ুয়া। এক ঘন্টা ধরে প্রশাসনিক উদাসীনতায় রাস্তায় পড়ে থাকে মৃত সৌরনীলের পিষ্ট হওয়া দেহ। আর সেখান থেকেই প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ জন্ম নেয় এলাকার সাধারণ মানুষের মনে। বড়িশা হাই স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়ি,বাইক। ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরেই পুলিশ ফাঁড়ি। একেই অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের ফলে খুদে পড়ুয়ার মৃত্যু,তাছাড়াও পুলিশের আসতে অস্বাভাবিক দেরি ও মৃতদেহ দীর্ঘক্ষণ ধরে পড়ে থাকা – এই অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা তখন লাগামের বাইরে। প্রথমে বোঝানোর চেষ্টা করেও বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
আরও পড়ুন অগ্নিগর্ভ বেহালা : দুর্ঘটনায় মৃত সৌরনীল, দায় কার?

স্কুলের গেটের সামনে বিক্ষোভরত জনতাকে হটাতে টিয়ার গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ। আহত হন পুলিশ এবং আমজনতা। টিয়ার গ্যাসে তখন অসুস্থ হয়ে পড়ে বহু শিশু। পুলিশের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ট্রাফিক সহ পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। কেন ঘটনার পর পুলিশ আসতে এত দেরী? কেন মৃতদেহ দীর্ঘক্ষন পরে রইল রাস্তায়? ঘটনার পরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এলাকা। সেই অশান্তির জেরে আটক করা হয় ১৮ জনকে। যদিও ঘটনার পর থেকেই থমথমে এলাকা। এরপর এদিন রাতেই পরিস্থিতি বদলে যায় অনেকটাই। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। বেহালা চৌরাস্তায় ট্রাফিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসে। শনিবার সকাল থেকেই বেহালা চৌরোস্তা মোড়ে মোতায়েন পুলিশ প্রশাসন। অন্যদিকে লালবাজার পুলিশ কমিশনারেটের তরফে লাগু করা হয়েছে একাধিক নির্দেশিকা। সকাল ৮ টার পরিবর্তে ৬ টা থেকেই নো এন্ট্রি লাগু করতে হবে প্রত্যেকটি স্কুলের বাইরে। এছাড়াও সরকারি হোক বা বেসরকরি স্কুলের সামনে মোতায়েন থাকবে পুলিশ। প্রত্যেক স্কুলের সামনে একজন করে অফিসার থাকতে হবে। সেটা ওসি বা অতিরিক্ত ওসিকে থাকতেই হবে।


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা