Home » নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কালীঘাটের কাকুকে জেরা করতে চেয়ে প্রেসিডেন্সি জেলে চিঠি ইডির

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কালীঘাটের কাকুকে জেরা করতে চেয়ে প্রেসিডেন্সি জেলে চিঠি ইডির

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২০ অক্টোবরঃ  নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের সক্রিয় ইডি। এবার ‘কালীঘাটের কাকু’ ওরফে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রর শরীর সম্পর্কে জানতে প্রেসিডেন্সি জেলে চিঠি পাঠাল ইডি। জেলে সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রর শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল তা জানতে চাইল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। জেলে থাকাকালীন তড়িঘড়ি কেন সুজয়কৃষ্ণকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হল। তা নিয়েই ইডির মনে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। সূত্রের খবর, শুধু প্রেসিডেন্সি নয়, এসএসকেএম কর্তৃপক্ষকেও চিঠি পাঠিয়েছে ইডি। এসএসকেএম হাসপাতালে ‘কালীঘাটের কাকু’-র শারীরিক অবস্থার কথা জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাঁর কী কী চিকিৎসা করা হচ্ছে? কেমন আছেন তিনি? সবটাই প্রশ্ন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন    অষ্টমীর আগে চুলের জেল্লা ফেরাতে দারুণ কাজ দেবে আমলকীর গুঁড়ো

একই সঙ্গে প্রেসিডেন্সি জেল কর্তৃপক্ষর থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে, কী পরিস্থিতির জন্য তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল, কী সমস্যায় তিনি ভুগছিলেন? কেন এসএসকেএম-এই ভর্তি করা হল? সূত্রের খবর, বেশ কয়েকদিন ধরেই এসএসকেএম-এ ভর্তি কালীঘাটের কাকু। তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতেই ইডি আধিকারিকরা এসএসকেএম-এ গিয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই ‘কালীঘাটের কাকু’কে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে নির্দেশ দিয়েছে বিশেষ ইডি আদালত। এসএসকেএম হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, কালীঘাটের কাকু সুস্থ আছে, কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে পারবেন। প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারির পর থেকেই তিনি নানা শারীরিক অসুস্থতার দাবি করেছেন। এরপর অসুস্থ হয়ে ভর্তি হন এসএসকেএম হাসপাতালে। বুকের ব্যাথা, চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার-সব মিলিয়ে দু’মাসেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে।

আরও পড়ুন    প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় গৌতম পালের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের

উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত ৩০ মে ইডির হাতে গ্রেফতার হন কালীঘাটের কাকু। নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডের তদন্তে নেমে কালীঘাটের কাকুর বেহালার বাড়ি, অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। যেদিন এই তল্লাশি চলছিল, সেদিন আবার নিজাম প্যালেসে হাজিরা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কালীঘাটের কাকুর বাড়ি ও অফিস থেকে ইডি বেরিয়েছিল ১৬ ঘণ্টা পর। জানা গিয়েছিল, প্রচুর নথি নাকি নিয়ে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের খবর, সেই নথির ভিত্তিতেই কালীঘাটের কাকুকে তলব করেছিল ইডি দফতরে। শেষ পর্যন্ত টানা ১১ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর ইডির হাতে গ্রেফতার হন তিনি। সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ছিলেন অভিষেকের অফিসের কর্মচারী। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে কালীঘাটের কাকু একাধিক কোম্পানির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। লিপস অ্যান্ড বাউন্স প্রাইভেট লিমিটেড-এর এএমডি পোস্টে ছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কোম্পানিরই ডিরেক্টরস বোর্ডের একটি তালিকায় নাম ছিল সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের। কিন্তু,লোকসভা ভোটের আগেই এই কোম্পানি থেকে ইস্তফা দেন কালীঘাটের কাকু। প্রাথমিক তদন্তে ইডি-র অনুমান,কালীঘাটের কাকু একাধিক কোম্পানির মাধ্যমে ঘুরপথে কালো টাকা সাদা করত।

About Post Author