Home » শিক্ষামন্ত্রকের নির্দেশে বিতর্কিত ফলক ভেঙে ফেলল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ

শিক্ষামন্ত্রকের নির্দেশে বিতর্কিত ফলক ভেঙে ফেলল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৭ ডিসেম্বরঃ ফলক বিতর্কে নাম জড়িয়ে প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। এসবের মাঝেই এবার বিতর্কিত ফলক ভেঙে ফেলল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বুধবার সন্ধ্যাবেলায় ভেঙে গুঁড়িয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয় ফলকগুলি। এমনকী এদিনই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের নির্দেশ মতোই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাঙ্গণে প্রতিস্থাপন করা হয় নতুন ফলক। স্বাভাবিকভাবে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বভারতীর পড়ুয়া অধ্যাপক থেকে শুরু করে প্রাক্তনী ও প্রবীণ আশ্রমিকেরা। জানা গিয়েছে, নতুন ফলকে আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী বা উপাচার্যের নাম নেই। ফলকের মাঝখানে অশোক স্তম্ভ। দুপাশে ইউনেস্কো ও বিশ্বভারতীর লোগো রয়েছে।

আরও পড়ুন    ISL2023-24: হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচে সাদিকুর জোড়া গোলে মান রক্ষা ‘মিনি হাসপাতাল’ মোহনবাগানের

কিছুদিন আগেই বিতর্কিত ফলক বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক। এই মর্মে কেন্দ্রের তরফে নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছিল। শিক্ষামন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল, একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট স্থির করে দেওয়া হবে এবং সেই ফরম্যাটেই নতুন ফলক তৈরি করতে হবে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আট জনের একটি কমিটি গঠন করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার জন বিভাগীয় প্রধান ও দু’জন এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল সদস্য ছিলেন। ফলকে যে লেখা থাকবে, সেটি বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি এই তিন ভাষাতেই লেখা থাকতে হবে।উল্লেখ্য, বিশ্বভারতীর উপাসনা গৃহ,মূল আশ্রম প্রাঙ্গন শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পত্তি। তাঁর দেখাশোনার দায়িত্বে বিশ্বভারতী এবং রক্ষণাবেক্ষণ করে পুরাতত্ত্ব বিভাগ।

সবমিলিয়ে ১৫ দশমিক ৩ একর জায়গা, যার খতিয়ান নম্বর ১১২২৭। ট্রাস্টের বক্তব্য, তাঁদের সঙ্গে কোনও পরামর্শ এবং অনুমতি না নিয়েই শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের জায়গার ফলক বসায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। যদিও শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের থানায় অভিযোগ প্রসঙ্গে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কিছুদিন আগেই ইউনেস্কো থেকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পায় বিশ্বভারতী। এরপরই সেখানে বিশ্বভারতীর আচার্য, অর্থাৎ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর নাম দিয়ে ফলক বসানো হয়। এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী থেকে শুরু করে আশ্রমিকরা। আর সেই ফলকে নেই স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম! বিতর্ক অবস্থান প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে শান্তিনিকেতনে। অভিযোগও জানানো হয় প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী, রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীকেও। ফলকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম না থাকায় প্রতিবাদে শান্তিনিকেতনের কবিগুরু হস্তশিল্প মার্কেটে মঞ্চ বাঁধে অবস্থান শুরু করেছে তৃণমূল।

About Post Author