সময় কলকাতা ডেস্ক, ৯ ফেব্রুয়ারিঃ জমির বদলে রেলে চাকরি দুর্নীতি মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন রাবড়ি দেবী। একইসঙ্গে দিল্লি আদালত তাঁর দুই কন্যা মিসা ভারতী ও হেমা যাদবকেও জামিন দিয়েছে। জমির বদলে রেলে চাকরি দুর্নীতি মামলায় লালুপ্রসাদ যাদবের পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে নোটিস জারি করে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার নোটিসে রাবড়ি দেবী ও তাঁর দুই কন্যা ছাড়াও অমিত কাটওয়াল ও হৃদ্যানন্দ চৌধুরির নাম ছিল। রাবড়ি ও তাঁর দুই কন্যাকে ইডির চার্জশিটের ভিত্তিতেই দিল্লির রাউস অ্যাভেনিউ কোর্টে তলব করা হয়। শুক্রবার তাঁদের হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুনানির সময় ইডির তরফে জানানো হয়, জামিনের আবেদনের উত্তর দিতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে তাদের। এরপরেই জামিনের আবেদন করেন রাবড়ি দেবীর আইনজীবী। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ অভিযুক্তের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক বিশাল গোগনে। ওইদিনই এই মামলায় পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা আছে।
আরও পড়ুন ফেসবুক লাইভ চলাকালীন শিবসেনার নেতাকে গুলি করে খুন, ঘটনাস্থলেই আত্মঘাতী অভিযুক্ত
প্রসঙ্গত, ইউপিএ জামানায় ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ছিলেন আরজেডি নেতা লালু প্রসাদ যাদব। সেসময় তিনি জমির বদলে রেলের গ্রুপ ডি পদে বহু যুবক-যুবতীকে চাকরি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময়কালে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন রাবড়ি দেবী। অভিযোগ, তিনিও জড়িত ছিলেন এই নিয়োগ দুর্নীতিতে। এমনকী লালুকন্যা আরজেডি সাংসদ মিশা ভারতীও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ। এরপর ২০২২ সালের ১৮ মে সিবিআই একটি মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় দাবি করা হয়, এক বেসরকারি সংস্থার নামে সম্পত্তি কিনে তার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সম্পত্তি বাজারদরের থেকে কমে কিনে নিয়েছিলেন লালুর পরিবারের সদস্যরা। সেই মামলাতেই চার্জশিট পেশ করে ইডি। জমির বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার মামলায় লালুপ্রসাদ যাদবের পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে নোটিসও জারি করে ইডি। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দাবি, পুরোনো মামলা ফের নতুন করে সামনে এনে বিরোধী নেতাদের হেনস্থা করতে চাইছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এই বিষয়ে দেশের ৯টি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব একযোগে চিঠি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। ওই চিঠিতেই সাক্ষর করেছিলেন আরজেডি সুপ্রিমো তেজস্বী যাদবও। কিন্তু এরপরই ইডি-সিবিআই তৎপরতা দেখাতে শুরু করেছে বলেই অভিযোগ জানিয়েছেন তেজস্বী।
বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি। আম আদমী পার্টির নেতা তথা দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়াকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে সিবিআই। দক্ষিণের নেত্রী তথা কেসিআর কন্যা কবিতাকেও দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় ডেকে পাঠিয়েছে ইডি। যদিও তিনি দিল্লিতে অনশন শুরু করেছিলেন। সেসময় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূল-সহ দেশের ১২টি বিরোধী রাজনৈতিক দল।


More Stories
শুভেন্দু -এনসিপিআই বৈঠক, তাৎপর্য কী?
দাতিয়ায় উপনির্বাচনে ধরাশায়ী বিজেপি, জয়ী কংগ্রেস
গুজরাটে মাঞ্জালপুরে বিজেপি জয়ী