Home » রানিগঞ্জে সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেফতার বিহারের আরও ১ দুষ্কৃতী

রানিগঞ্জে সোনার দোকানে ডাকাতির ঘটনায় গ্রেফতার বিহারের আরও ১ দুষ্কৃতী

সময় কলকাতা ডেস্ক: ১৬ জুনঃ রানিগঞ্জে বিখ্যাত সোনার দোকানে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল ঝাড়খণ্ড ও আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ। এবার ডাকাতি ঘটনায় গ্রেফতার আরও এক। ধৃতের নাম নাগেন্দ্র যাদব। বিহারের সারান জেলার মোবারকপুরের বাসিন্দা সে। জানা গিয়েছে, গহনার দোকানে লুটপাটের সময় তার হাতেই ছিল ৭.৬৫ এমএম পিস্তল। একটি মোটর বাইকে যে চারজন চেপে পালিয়েছিল তার মধ্যে ছিল এই নাগেন্দ্র। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতকে সোমবার আসানসোল আদালতে পেশ করা হবে। ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হবে। এদিকে, ডাকাতির ঘটনায় রবিবারই গ্রেপ্তার হয় শশীকান্ত মালী নামে এক যুবক। অন্ডাল থানার দক্ষিণখন্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে। এই শশীকান্ত মালীর বাড়িতেই ২৬ দিন থেকে রেইকি করেছিল মাস্টারমাইন্ড সোনু সিং। এর আগে গত ১২ জুন বিহারের বাড়ি থেকে আরেক অভিযুক্ত সোনু সিংকে ঝাড়খন্ড পুলিশের সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, গহনার দোকানে লুটপাটের পর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সঙ্গীদের বাইকে চেপে ডাকাত দলের সদস্য সোনু পালিয়ে যায় বিহারের বাড়িতে। সেখান থেকেই গ্রেফতার হয় সোনু। জানা গিয়েছে, বিহার থেকে গ্রেফতারের পর সোনুকে ধানবাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ভর্তি করায় বর্ধমান হাসপাতালে।   

আরও পড়ুন   মৃত অন্তত ৫,কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে, দেওয়া হল হেল্পলাইন নাম্বার

উল্লেখ্য, গত ৯ জুন, রবিবার দুপুরে রানিগঞ্জের একটি নামী সোনার দোকানে ভয়াবহ ডাকাতি হয়। দুষ্কৃতীরা আচমকাই সোনার দোকানে উপস্থিত ক্রেতা এবং কর্মীদের এক জায়গায় বসিয়ে রেখে লুটপাট শুরু করে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। এরপরই শুরু হয় পুলিশ এবং দুষ্কৃতীদের মধ্যে গুলি বিনিময়। জামুরিয়া থানার শ্রীপুরের আইসি মেঘনাথ মন্ডল দুষ্কৃতীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। মেঘনাথ মন্ডলের গুলিতে জখম হন এক দুষ্কৃতী। দুপক্ষের যখন গুলি বিনিময় হয়, তখন এলাকার ব্যবসায়ীরাও রুখে দাঁড়ান। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে শোরুম ছেড়ে রানিগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড় হয়ে নিয়ামতপুর -লিথুরিয়া রোড ধরে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। পুলিশের অনুমান ছিল, নিয়ামতপুর লিথুরিয়ার রাস্তা ধরে পুরুলিয়ার দিকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।

ডাকাতির সময় ওই সোনার দোকানের মালিক সুদীপ রায় দোকানে উপস্থিত ছিলেন। সারারাত ধরে ডগ স্কোয়াড, বেঙ্গল পুলিশ এবং ঝাড়খন্ড পুলিশ চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছে সরিয়া এলাকায়। ডাকাতেরা রানিগঞ্জ থেকে পালিয়ে একটি চারচাকা গাড়ি করে ঝাড়খন্ড দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। পথেই গাড়ি চালকের কাছ থেকে গাড়িটি ছিনিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা। চালক বাধা দিলে চালকের পায়ে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। দুষ্কৃতীরা গাড়িটি ছিনতাই করে জি টি রোড ধরে ঝাড়খন্ড বিহারের দিকে পালাতে শুরু করে। বেঙ্গল পুলিশ রানিগঞ্জ থেকেই গাড়িটির পিছু নেয়। এরপরই রাস্তায় গাড়িটিকে আটক করে গিরিডি থানার পুলিশ। পুলিশ গাড়িটিকে ঘিরে ফেললে দুষ্কৃতীরা আহত এক ডাকাতকে ফেলে দিয়ে চম্পট দেয়। এরপরই উদ্ধার করা হয় লুট করা গয়না অস্ত্রশস্ত্র এবং গুলি।

About Post Author