সময় কলকাতা,তুষার সাহা চৌধুরী,প্রয়াগরাজ:- ৫ বছর অন্তর ভারতের ৪ পুণ্যস্থানে হয় কুম্ভমেলা। এবারে প্রয়াগরাজে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতীর সঙ্গমস্থলে ৪০ কোটি পুণ্যার্থীর জন্য গড়ে তোলা হয়েছে এক অস্থায়ী নগরী। ১৫ বর্গমাইল এলাকায় আয়োজিত কুম্ভমেলা। ১৩ জানুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে ভারতে হিন্দু পুণ্যার্থীদের সবচেয়ে বড় সমাবেশ। এবার মহাকুম্ভে ৪০ কোটিরও বেশি ভক্ত অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম শাহি স্নান ছিল সোমবার, তার আগে থেকেই সঙ্গমে ভক্তদের সমাগম শুরু হয়। এই মহাকুম্ভ মেলায় দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা এসেছেন পবিত্র নদীতে স্নান করতে। এই সময়ে অমৃতস্নানের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, যেখানে প্রথমে ঋষি-সাধুরা এবং তারপর সাধারণ মানুষ ডুব দেন।
বিশ্বাস
এটা বিশ্বাস করা হয় যে মহাকুম্ভে স্নান করলে সকল প্রকার কষ্ট দূর হয় এবং পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। প্রতি ১২ বছর অন্তর হরিদ্বার, প্রয়াগরাজ, উজ্জয়িনী এবং নাসিকে মহাকুম্ভ মেলার আয়োজন করা হয় এবং এর মধ্যে প্রয়াগরাজে অনুষ্ঠিত মহাকুম্ভ সবচেয়ে জমকালো। মহাকুম্ভ, যা ৩০-৪৫ দিন ধরে চলে, হিন্দুদের কাছে অনেক তাৎপর্য রয়েছে। কুম্ভমেলার ইতিহাস সুপ্রাচীন। এই মেলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু রহস্যকথা। কোনও কোনও প্রাচীন শাস্ত্র অনুসারে কুম্ভমেলা প্রথম আয়োজিত হয়েছিল সত্যযুগে। তবে সত্যযুগে প্রথম কুম্ভে ঠিক কবে এবং কোথায় আয়োজিত হয়, তা স্পষ্ট ভাবে কোথাও উল্লেখ করা নেই। সমুদ্র মন্থনের পর থেকেই কুম্ভমেলা আয়োজিত হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস। কোনও কোনও বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, কুম্ভমেলা ৮৫০ বছরের বেশি পুরোনো।
আদি শঙ্করাচার্যের হাত ধরে প্রথম কুম্ভমেলা শুরু হয় বলে অনেকে জানাচ্ছেন। আবার ইতিহাসবিদদের অনেকে বলেন যে গুপ্তযুগে কুম্ভমেলা প্রথম আয়োজিত হয়। সম্রাট হর্ষবর্ধনের আমলেও কুম্ভ আয়োজিত হত বলে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। সম্রাট হর্ষবর্ধনের আমলে যে কুম্ভমেলার আয়োজন হত, তার প্রামাণ্য নথি পেয়েছেন ইতিহাসবিদরা। প্রয়াগে তিন নদীর সঙ্গমে হর্ষবর্ধন প্রতি পাঁচ বছর অন্তর কুম্ভমেলার আয়োজন করতেন। সেখানে তিনি নিজের সর্বস্ব, এমনকী পরনের বস্ত্রটুকুও দান করে দিতেন।
প্রয়াগরাজেই কেন মহাকুম্ভ?
প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ আয়োজিত হওয়ার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। কারণ এখানেই গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী নদীর সঙ্গম রয়েছে। তাই এই স্থানের গুরুত্ব অন্য তিন স্থানের চেয়ে বেশি। মনে করা হয়, শাহি স্নানের সন্ধিক্ষণে যিনি এই ৩ নদীর সঙ্গমে স্থান করেন, তাঁর মুক্তিলাভ হয়। চলতি বছরের কুম্ভমেলায় শুরুর দিনই উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে দেখা গিয়েছে ভক্তদের ঢল। কুম্ভমেলার প্রধান শাহী স্নান শুরু হয় সকাল থেকেই। শুধুমাত্র ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে নয়। বিদেশ থেকেও বহু ভক্ত এসেছেন প্রয়াগরাজে। কুম্ভমেলার শুরুর দিন থেকেই তাঁরা শাহি স্নানে মন দিয়েছেন। । এই সময়টা অধ্যাধিক ঠান্ডা থাকে। স্বভাবতই জলও মারাত্মক ঠান্ডা। তবে শাহী স্নানে কোনও রকম কার্পণ্য করছেন না কেউই। ব্রাজিল, স্পেন, পর্তুগাল, রাশিয়া, জার্মানি, দক্ষিণ আফ্রিকা সহ একাধিক দেশ থেকে ভক্তরা এসেছেন কুম্ভমেলায়। প্রয়াগরাজে গঙ্গা, যমুনা, সরস্বতীর মিলনস্থলই হয়ে উঠেছে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। সাধু-সন্ন্যাসী, সাধারণ মানুষ তো বটেই মহাকুম্ভ যজ্ঞে বহু হেভিওয়েটরাও অংশ নিয়েছেন।
মহাকুম্ভের অন্যতম আকর্ষণ কল্পবাসী প্রথা। হিন্দু পুরাণ অনুসারে এ এক প্রাচীন প্রথা। কল্প অর্থাৎ দীর্ঘ সময় আর বাস অর্থাৎ, বসবাস করা। গোটা মাঘ মাস জুড়ে তিন নদীর সঙ্গমের বালুতটে থাকেন কল্পবাসীরা। তীব্র শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন তাঁরা বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। সাধারণত, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ড এবং বিহারের গ্রামের মানুষরা মহাকুম্ভের কল্পবাসী হন।



More Stories
হর্ষ-বিষাদে পালিত ঈদ-উল-আযহা
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে