সময় কলকাতা ডেস্ক:- অশোকনগর এলাকার জলসার মঞ্চে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দিন তিনেক আগে শোকজের চিঠি পেয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী। সাতদিনের মধ্যে তাঁর জবাব দেওয়ার কথা। তার মধ্যে অবশ্য অন্য পথে দলের মানভঞ্জনের চেষ্টা করলেন বিধায়ক। এর মধ্যেই চুপিসাড়ে তিনি দেখা করেন কৃষি মন্ত্রী তথা বিধানসভার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির প্রধান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সূত্রের খবর, নিজের বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন নারায়ণ গোস্বামী। ভুল শোধরানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। কিন্তু এনিয়ে নারায়ণ গোস্বামী মুখ খুলতে চাননি। তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, ”সময়ের মধ্যেই যা জবাব দেওয়ার, দেব।”
দলের মধ্যে অসন্তোষ
শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে শোকজের মধ্যেই নারায়ণ গোস্বামীকে খড়দহের এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করলো দলের একটা অংশ। তাই দেখে বিরোধীদের বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের এইসব শোকজের কোন গুরুত্ব নেই। এদিকে ওই অনুষ্ঠানে অশোকনগরের বিধায়কের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির বর্তমান চেয়ারম্যান কৃষি মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। সূত্রের খবর, সেখানেই নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান নারায়ণ গোস্বামী। জানান, আবেগের বশেই তিনি নানা সময়ে নানা বেফাঁস কথা বলে ফেলেন, যা বিতর্ক তৈরি করেছে। এর জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশও করেছেন। এরপর সতর্ক হবেন বলে জানান।
শোকজের জবাব লিখিতভাবে দিতে হবে
আগেও অবশ্য ঘনিষ্ঠ মহলে একই সাফাই দিয়েছিলেন নারায়ণ গোস্বামী। কিন্তু শোভনদেব তাঁকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এসব বলে লাভ নেই। শোকজ চিঠির লিখিত জবাব দিতে হবে। অশোকনগরের বিধায়কের নানা মন্তব্য বারবার দলকে বিড়ম্বনায় ফেলেছে। জনমানসে তা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, সেকথা মাথায় রেখেই ছাব্বিশের ভোটের আগে নারায়ণে কড়া হল তৃণমূল। কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, যে বিধায়ক বা নেতা শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য অভিযুক্ত সেই নেতা লিখিত জবাব না দিয়ে কি করে দলীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণপত্র পায়? এটা তৃণমূল কংগ্রেসের সম্ভব।
গত ২৪ জানুয়ারি দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অশোকনগরের তৃণমূল বিধায়ককে নবান্নে ডেকে শোকজ লেটার হাতে ধরিয়ে দেন বিধানসভার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির প্রধান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এর আগে ডিসেম্বরে মুখ্যমন্ত্রী উত্তর ২৪ পরগনা সফরে গিয়ে বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামীকে সতর্ক করেছিলেন। তিনি যেন অন্য বিধানসভা এলাকায় নজর না দেন, স্পষ্ট সেই নির্দেশ দেন মমতা। কিন্তু তারপরও সতর্ক হননি বিধায়ক। সম্প্রতি অশোকনগরের এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মঞ্চে অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় দেখা গিয়েছিল নারায়ণ গোস্বামী। মঞ্চে দাঁড়িয়ে একের পর এক ‘চটুল’ রসিকতা করতে থাকেন তিনি। দর্শকাসনে থাকা তরুণীদের উদ্দেশে নানা ধরনের কুকথা বলতে শোনা যায় তাঁকে। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই সোশাল মিডিয়ায় আলোচনা শুরু হয়ে যায় বিধায়ক সুস্থ অবস্থায় ছিলেন তো?


More Stories
কুণাল-কল্যাণ :কলকাতায় চ্যাংদোলা, দিল্লিতে সাসপেন্ড
পুলিশের জালে স্বপন সাহা, মালবাজারে দোলাচল
মমতা প্রমাণ করলেন কর্মীরাই আসল তৃণমূল