স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৭এপ্রিল: রবিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে মুখোমুখি হয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও কলকাতা নাইটরাইডার্স। গত ম্যাচে ঘরের মাঠে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে লড়াই করে হারতে হয়েছে। অপরদিকে শেষ ম্যাচে দিল্লিকে হারিয়েছে পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। তাই ঘরের মাঠে নাইটদের বিপক্ষে বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামেন রোহিত, সূর্যরা। ওয়াংখেড়েতে শুরুতে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুম্বই অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। এদিন নেতৃত্বে বদল এনে চমক দেয় মুম্বই। মুম্বইয়ের অধিনায়ক রোহিত শর্মা দলে ছিলেন ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে। সূর্য কুমার যাদবের সঙ্গে মুম্বইয়ের হয়ে টস করতে আসেন মুম্বইয়ের মহিলা দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। এদিন নাইটদের বিরুদ্ধে মুম্বইয়ের হয়ে অভিষেক হয় অর্জুন তেন্ডুলকরের।

মুম্বই অধিনায়কের সিধান্ত সঠিক ছিল, প্রমাণ করলেন মুম্বই বোলাররা। এই ম্যাচে অভিষেক হওয়া, ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকরের পুত্র অর্জুনই প্রথম ওভারটি করেন। ম্যাচের শুরুতেই জগদীশনের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নাইটরা। এরপর তিন নম্বরে নেমে দলে হাল ধরেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। ৫১ বলে ১০৪ রানের দুরন্ত ইনিংস উপহার দেন ভেঙ্কটেশ। দীর্ঘ ১৫ বছর পর দ্বিতীয় নাইট ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি করে নজির গড়লেন ভেঙ্কি।
আরও পড়ুন হেরেই চলেছে দিল্লি, জয় ব্যাঙ্গালোরের

২০০৮ সালে আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন নাইট রাইডার্সের কিউয়ি ব্যাটার ব্র্যান্ডন ম্যাককুলাম। এরপর আইপিএলের ১৫ টি সংস্করণ হয়ে গেলেও নাইটদের কোনো ক্রিকেটার শতরানের ক্লাবে নিজেদের নাম লেখাতে পারেননি। এবার সেই কাজটিই করলেন নাইটদের মধ্যপ্রদেশের ২৮ বছরের ব্যাটার। ভেঙ্কটেশ রান পেলেও এদিন সম্পূর্ণ ব্যর্থ নাইট ব্যাটিং অর্ডার। শেষ দিকে নেমে রাসেলের ১১ বলে ২১ রান ছাড়া আর কোনো নাইট ব্যাটার এই ম্যাচে দাগই কাটতে পারলেন না। ভেঙ্কটেশ আইয়ার গতিতে রান করলেও, বাকিরা প্রায় প্রত্যেকেই রানের তুলনায় বেশি বল খেললেন। ভেঙ্কটেশের শতরানের সুবাদে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮৫ রান করে নাইট বাহিনী।

নবম ওভারে নাইট অধিনায়ক নীতিশ রানার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন মুম্বই বোলার হৃত্বিক শকিন । ১০ বলে ৫ রান করে হৃত্বিকের বলে আউট হন নাইট অধিনায়ক নীতিশ রানা। এরপরই মাঠের মধ্যেই তর্কাতর্কিতে জড়ান দুই ক্রিকেটার। দুজনের আচরণ ভালো চোখে নেননি ম্যাচ রেফারি। নীতিশের ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ ও হৃত্বিকের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। জবাবে, ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন মুম্বইয়ের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও ঈশান কিষান। পঞ্চম ওভারে বড় শট খেলতে গিয়ে সুয়াশের বলে আউট হন রোহিত। এরপর মুম্বই অধিনায়ককে সঙ্গে নিয়ে মুম্বইয়ের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান ঈশান।
আরও পড়ুন ভেঙ্কটেশের তান্ডব কাজে এল না, কেকেআর-কে হারিয়ে জয়ী মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স

এদিন ৫৮ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন ঈশান। বরুণ চক্রবর্তীর বলে ঈশান ফিরলে মুম্বই অধিনায়কের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিলক বর্মা। ২৫ বলে ৪৩ রান করে ফেরেন তিলক। আর ২৫ বলে ৪৩ রান করেন এদিনের মুম্বই অধিনায়ক। এরপর বাকি কাজটি করেন মুম্বইয়ের সিঙ্গাপুর জাত অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার টিম ডেভিড। এই জয়ের ফলে চার ম্যাচের দুটিতে জিতে আট নম্বরে উঠে এল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এক ম্যাচ বেশি খেলে দুটিতে জিতে রান রেটের বিচারে পঞ্চম স্থানে রইল কলকাতা। আগামী ২০ এপ্রিল অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সৌরভের নাইটদের বিরুদ্ধে নামবেন নাইটরা।


More Stories
পাকিস্তান বধ, সমতায় অজিবাহিনী
গ্রেফতারির ভয়ে আগাম জামিনের আবেদন অরূপ বিশ্বাসের
ইউনিটি কাপ থেকে শূন্য হাতে ফিরছে ভারত