সময় কলকাতা, পুরন্দর চক্রবর্তী, ১২ জানুয়ারিঃ স্বামী বিবেকানন্দ তাঁর উনচল্লিশ বছরের জীবনে সমাজের দিকে দিকে এনেছিলেন নবজাগরণ। লালআলোর পরীরা ছিল তাঁর বিশেষ ভাবনা। বিবেকানন্দ লিখে গেছেন ,”যাহারা ঠাকুরঘরে গিয়াও ঐ বেশ্যা, ঐ নীচজাতি, ঐ গরীব ছোটোলোক ভাবে তাহাদের সংখ্যা যত কম হয়, ততই মঙ্গল।… প্রভুর কাছে প্রার্থনা করি যে, শত শত বেশ্যা আসুক তাঁর পায়ে মাথা নোয়াতে, বরং একজনও ভদ্রলোক না আসে নাই আসুক। বেশ্যা আসুক – মাতাল আসুক, চোর ডাকাত আসুক-তাঁর অবারিত দ্বার।” যুগপুরুষ স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন ১২ জানুয়ারি। স্বামী বিবেকানন্দ ছিলেন একাধারে ঋষি, সমাজ সংস্কারক ও মানবদরদী। নিপীড়িত, দরিদ্র, অশিক্ষিত ভারতবাসী ছিল তাঁর ভাই। তিনি যুগ প্রবর্তক ছিলেন, কারণ তিনি সে যুগে অচলায়তন সংস্কারের ঘেরাটোপ অতিক্রম করেছিলেন। একালের নারী যৌনকর্মী যাঁরা সেই মহিলারা সে যুগে ছিল অশেষ ঘৃণার পাত্রী।
আরও পড়ুন খালি করেননি সরকারি বাংলো, মহুয়া মৈত্রকে পুনরায় নোটিস কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের
তাঁদের তিনি করুণাসহ করে গেছেন আশীর্বাদ।সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিবেকানন্দের প্রভাব তাঁর জন্মের ১৬০ বছর পরেও তাঁকে রেখেছে অতি প্রাসঙ্গিক। লালআলোর পরীদেরও তিনি দিয়েছেন সমাদর। যার চৰ্চাও আজও প্রাসঙ্গিকতার দাবী রাখে। দেড়-দুশো বছর আগে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাঁরা ছিলেন দেহোপজীবিনী, গণিকা বলে যাঁরা চিহ্নিতা ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ তাঁদের জন্য মানুষের মন থেকে ঘৃণা দূর করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। তিনি গণিকাদের সম্পর্কে ভক্তদের জানিয়েছিলেন,”তাহাদিগকে দেখিয়া ঘৃনায় নাক কুঞ্চিত করিও না। সুদূর আমেরিকায় এক ভক্ত তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন,” বেশ্যাগণ দ্বারা সমাজের অমঙ্গল ব্যতীত কিছু সাধিত হয় কি? ” স্বামীজি উত্তরে জানান, বর্মের মত শত শত সতীনারীকে লম্পটের অন্যায় অত্যাচার থেকে রক্ষা করছে নারী যৌনকর্মীরা। তাঁদের ঘৃণা নয়, দিও ধন্যবাদ।

স্বামী বিবেকানন্দর জ্ঞানের চোখ খুলে দিয়েছিলেন রাজস্থানের এক নর্তকী। স্বামী বিবেকানন্দ জানান, জয়পুরে এক নর্তকীর নৃত্যের আসরে যাওয়ার প্রস্তাব উপেক্ষা করেছিলেন তিনি। ব্যথিত হয়ে নর্তকী গেয়ে উঠেছিল , “প্রভু মেরা অবুগুন চিতে না ধরো… জ্ঞানী কাহে ভেদ করো।’ ভেদবুদ্ধি নিয়ে নর্তকীর খেদ সেদিনই মর্মে প্রবেশ করায় নর্তকীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন স্বামীজি। রামকৃষ্ণ বা বিবেকানন্দের গণিকাদের নিয়ে অবস্থান প্রশ্নে আদৰ্শ নীতিবাগিশরা বারবার প্রশ্ন তুলেছেন। স্বামীজি এক চিঠিতে লেখেন “… এক পত্র পাইলাম, তাহাতে তিনি লিখিতেছেন যে, দক্ষিণেশ্বরের মহোৎসবে অনেক বেশ্যাগণ যাইয়া থাকে, সেজন্য অনেক ভদ্রলোকের তথায় যাইবার ইচ্ছা কম হইতেছে। এবিষয়ে আমার বিচার এই – বেশ্যারা যদি দক্ষিণেশ্বরের মহাতীর্থে যাইতে না পারে তো কোথায় যাইবে? পাপীদের জন্য প্রভুর বিশেষ প্রকাশ, পুণ্যবানের জন্য তত নহে।”


More Stories
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
“ইতিহাসের পাতা থেকে” কালজয়ী : সাহিত্যের মণিমুক্তো