Home » সাগর দত্তের চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বাড়ল পুলিশের সংখ্যা, বসছে ৪০টি নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা

সাগর দত্তের চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বাড়ল পুলিশের সংখ্যা, বসছে ৪০টি নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৯ সেপ্টেম্বরঃ আরজিকর কাণ্ডের আবহেই চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগে ধুন্ধুমার কাণ্ড কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে। শুক্রবার রাতে চিকিৎসকদের উপর হামলা চালায় রোগীর পরিজন। ঘটনায় আহত হন ৩ জুনিয়র ডাক্তার, নার্স-সহ ৩ স্বাস্থ্যকর্মী ও এক পুলিশকর্মী। এই ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এমনকী ডাক্তারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তাররা কর্মবিরতির ডাক দেন। এবার জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনে নড়েচড়ে বসল ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদার করা হল।

আরও পড়ুন মহানন্দার তীরে পরিত্যক্ত সদ্যোজাতের দেহ, খুবলে খেল কুকুর

সাগর দত্তের চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে গত ১০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের মধ্যেই চালু হয়েছিল পুলিশ আউটপোস্ট। এবার হাসপাতালের ওই আউটপোস্টে নতুন করে আরও তিনজন অফিসার ও ১২ জন কনস্টেবল বৃদ্ধি করা হল। সেইসঙ্গে ইমার্জেন্সিতে আরও বেশি করে নজরদারি রাখা হচ্ছে। হাসপাতালে নতুন করে ৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। অন্যদিকে, শুক্রবার সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের ডাক্তারদের উপর হামলার ঘটনায় হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা প্রাইভেট সিকিউরিটি এজেন্সিকে শোকজ করা হয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীরা থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে একদল লোক উপরে উঠে হামলা চালাল, তা তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিয়ে কামারহাটি সাগর দত্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন রঞ্জনা সাউ (৩৬) নামে এক রোগী। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁর মৃত্যু হয়। রোগীর পরিজনদের দাবি, হাসপাতালে কোনওরকম চিকিৎসা হয়নি রোগীর। এর ফলে মৃত্যু হয় তাঁর। এদিকে, রোগীর মৃত্যুর পর হাসপাতালের ভিতরেই বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন রোগীর পরিজনরা। আচমকা ২০-২৫ জন একসঙ্গে হাসপাতালে ঢুকে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। মারধর করা হয় হাসপাতালের অন্যান্য মহিলা চিকিৎসক, নার্স, জুনিয়র নার্স-সহ নিরাপত্তা কর্মীদের। এমনকী হাসপাতালে ভাঙচুরও চালানো হয় বলেই অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হামলাকারীরা কীভাবে রোগীদের ওয়ার্ডে ঢুকে পড়লেন, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। হাসপাতালে নিরাপত্তায় যে গাফিলতি রয়েছে, তা কার্যত স্বীকার করছেন সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল পার্থপ্রতিম প্রধান। গোটা ঘটনা ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য ভবনে তিনি জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতিকে সমর্থন জানান তিনি। এদিকে, ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

About Post Author