সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৬ মার্চ: সামনেই পঞ্চায়েত ভোট। আর পঞ্চায়েত ভোটের আগে চাপে রয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। সাগরদিঘিতে ২২ হাজারের বেশি ভোটে পরাজয়। সর্বভারতীয় দল “তকমা” নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে। ত্রিপুরা-মেঘালয় নির্বাচনের মুখ পুড়েছে দলের। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন নিয়োগ দুর্নীতি, আবাস যোজনা দুর্নীতি, একশ দিনের জব কার্ড দুর্নীতি, মিড ডে মিলে দুর্নীতি সহ একাধিক দুর্নীতিতে কার্যত কোণঠাসা রাজ্যের শাসক দল। প্রায় প্রতিদিনই কোটের নির্দেশে চাকরি হারাচ্ছেন শয়ে শয়ে অযোগ্য চাকরিজীবীরা। দলের উপর চাপ বাড়তে শুরু করেছে।

তদন্তকারী সংস্থা নিয়োগ দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই জালে নিয়েছে শাসক দলের বড় মাঝারি ছোট নেতাদের। আতস কাঁচের নিচে রয়েছে গ্রাম বাংলার পঞ্চায়েত সদস্য জেলা পরিষদ সদস্য থেকে শুরু করে শহর ও শহরতলীর কাউন্সিলাররা। যারা চাকরি হারিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা শাসক দলের স্থানীয় নেতাদের ঘেরাও এমনকি গাছে বেঁধে রেখে টাকার ফেরতের দাবি জানাতে শুরু করেছেন। এক কথায় দিশেহারা তৃণমূল কংগ্রেস। সাগরদিঘী পরাজয়ের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, সাগরদিঘী বিধানসভা কেন্দ্র কখনোই সুবিধা জনক অবস্থানে ছিল না রাজ্যের শাসক দল।
এই পরিস্থিতিতে দলকে চাঙ্গা করতে শুক্রবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বদের নিয়ে কালীঘাটে বৈঠক বসতে চলেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে থেকে তিনি কী বার্তা দিতে চলেছেন এখন সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনের পাশাপাশি ২০২৪-এ লোকসভা ভোট। চলতি বছরে দেশের দশটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেই রাজ্যের নির্বাচনে দল ফের একবার বাজি ধরবে কিনা এবং জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিজেপি বিরোধীতায় তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান কি হবে সেই বিষয়টিও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কার্যত জাতীয় রাজনীতিতে এই মুহূর্তে অ-বিজেপি দলগুলি দুটি ভাগে বিভক্ত। একদিকে বাম-কংগ্রেস সহ অন্যান্য দল। অপরদিকে আপ-তৃণমূল সহ অন্যান্য দল। ডিএমকে, ডিএমকে, তেলেগু দেশম, টি আর এস, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি, জনতা দল ইউনাইটেড, জনতা দল সেকুলার, উদ্যোগ ঠাকরের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ শিবসেনা, এন সি পি সহ দলগুলি উভয় গোষ্ঠীর সঙ্গেই বর্তমানে যোগাযোগ রেখে চলেছে। তবে বেশিরভাগ ছোট এবং আঞ্চলিক দলগুলি মনে করছে কংগ্রেস ও বামদল গুলিকে বাদ দিয়ে বিজেপি বিরোধী জোট গঠন করা সম্ভব নয়। দক্ষিণ ভারতের বহু আঞ্চলিক দল ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যে বাম দলগুলি সঙ্গে জোটে রয়েছে। অন্যদিকে এখনো পর্যন্ত একলা চলো নীতি নিয়ে চলছে বিজু জনতা দল। আর তাই লোকসভা নির্বাচনে প্রাক্কালে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস কোন অবস্থান নেয় সেদিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহল মহল। অন্যদিকে আগামীকালের বৈঠকে অনুব্রত মণ্ডলের ভবিষ্যৎ নিয়েও সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


More Stories
আইনি জটিলতা কাটাতে এনসিপিআই-এ মিশে গেলেন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা
“রাজনৈতিক প্রতিহিংসা “, জামিনের আবেদন সুজিত বসুর
কার্যত ভুল স্বীকার করে নিলেন অভিষেক, সুর নরম কল্যাণের, অভিষেক – কল্যাণ বিবাদ মিটল!