সময় কলকাতা ডেস্ক, ১১ মে: নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত জীবনকৃষ্ণ সাহাকে জেলে গিয়ে জেরা করতে চায় সিবিআই। সূত্রের খবর, পুকুরে ফেলে দেওয়া তাঁর দুটি মোবাইল ফোন থেকে তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, এমনটাই দাবি সিবিআইয়ের। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এবার জেলে গিয়ে বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ককে জেরা করতে চান সিবিআই আধিকারিররা। কারিগরি বিশেষজ্ঞরা এই দুটি ফোন থেকেই বেশিরভাগ তথ্য উদ্ধার করতে পেরেছেন। যা থেকে নিয়োগ দুর্নীতিতে বিধায়কের যোগ স্পষ্ট। বাকি তথ্যও উদ্ধারেরও চেষ্টা হচ্ছে। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তথ্য সামনে আসায় এবার জেলে গিয়ে বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ককে জেরা করতে চায় সিবিআই। উল্লেখ্য, গত ৪ এপ্রিল জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে তল্লাসি চালায় সিবিআই। অভিযোগ, জেরা চলাকালীনই নিজের দুটি মোবাইল ফোন বাড়ির পিছনে পুকুরে ফেলে দেন বিধায়ক। সেই মোবাইলের খোঁজে পাম্প লাগিয়ে পুকুরের জল ছাঁচতে শুরু করে সিবিআই। তিনদিন ধরে নাটকীয় তল্লাশির পরে অবশেষে পাওয়া যায় তৃণমূল বিধায়কের দুটি মোবাইল ফোন। পুকুর থেকে তাঁর মোবাইল ফোনদুটি উদ্ধারের পরেই হায়দরবাদের কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। এরপরই তদন্তে নেমে জীবনকৃষ্ণের আয় বহির্ভূত সম্পত্তি চক্ষু চড়ক গাছ তদন্তকারী আধিকারিকদের। এমনকী নির্বাচনী হলফনামায় যে সম্পত্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন জীবনকৃষ্ণ, তার চেয়েও অনেক বেশি সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে সিবিআই। সূত্রের খবর, বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার নিজের ৮ টি অ্যাকাউন্ট আর স্ত্রী টগরীর ৩ ব্যাংক অ্যাকউন্ট রয়েছে। হিসেব বলছে, তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩০০ কোটি ছাড়াতে পারে। পেশায় জীবনকৃষ্ণ স্কুলের শিক্ষক।
আরও পড়ুন দিল্লির বিদায় নিশ্চিত করে শেষ চারের দিকে চেন্নাই
কিন্তু বিধায়ক হওয়ার ‘সুবাদে’ই কখনও বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে আর স্কুলে পড়াতে যেতে হত না। বরং মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম জেলায় তিনি ব্যবসায় বেশি মন দিয়েছিলেন। রাইস মিল থেকে শুরু করে নামে-বেনামে প্রচুর জমি, সম্পত্তির হদিশ পায় সিবিআই। জীবনকৃষ্ণবাবু ও স্ত্রী টগরীর নামে ১১টি অ্যাকাউন্টে মোট ১ কোটি ১২ লক্ষ ৯৮ হাজার ৬৩০ টাকার হদিশ পেয়েছে সিবিআই।

প্রসঙ্গত, গত ৪ এপ্রিল নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে টানা ৬৫ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর শেষমেশ সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে গত তিনদিন ধরে বড়ঞার এই তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালায় সিবিআই। তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে অসহযোগিতা, তথ্য প্রমাণ লোপাটের মতো অভিযোগ রয়েছে। এরপরই ওইদিন সকাল ১১ টা নাগাদ জীবনকৃষ্ণ সাহাকে নিয়ে আসা হয় নিজাম প্যালেসে। এরপরই আদালতে জীবনকৃষ্ণকে তোলা হলে জামিনের আবেদন করেন তিনি। কিন্তু আদালতে এদিন খারিজ হয়ে যায় সেই আবেদন। অভিযোগ, জীবনকৃষ্ণ সাহা নাকি টাকার বিনিময় চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন। এমনকী চাকরিপ্রার্থীদের নাম সুপারিশ করতেন বলেও সিবিআই সূত্রে খবর। এছাড়াও নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত বিভিন্ন জনের মুখে উঠে এসেছে তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার নাম।


More Stories
তৃণমূল বিধায়ক ও সাংসদদের ভাবমূর্তি সমূলে ধ্বংস করে বড় জয় বিজেপির
দিল্লি গেলেন অভিষেক
ঔদ্ধত্য,দাম্ভিকতা,অহংকার এবং দুর্নীতিকে মদত -নাম না করে মমতাকে বেনজির আক্রমণ শান্তনু সেনের